নিউজ পোল ব্যুরো: ভারতের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে যখন বারবার আলোচনা হচ্ছে, তখনই উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় (Central University) আজ শনিবার ভয়াবহ শিক্ষক সংকটের (Faculty Shortage) সম্মুখীন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের দেওয়া সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, অনুমোদিত ১৩,২৩৫টি অধ্যাপকের পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৫,৪১০টি, যা মোট পদের প্রায় ৪১%। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার সংসদে জানিয়েছেন যে, এত সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিশাল প্রভাব পড়ছে। শুধু তাই নয়, সংরক্ষিত পদগুলিতেও ঘাটতি প্রকট। তফসিলি জাতি (SC), তফসিলি জনজাতি (ST) এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (OBC) সংরক্ষিত ক্যাটাগরিতে যথাক্রমে ৭৮৮, ৪৭২ এবং ১,৫২১টি পদ খালি রয়েছে। ফলে পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।
আরও পড়ুন:- Golden Temple: হোলি উৎসবের মাঝে স্বর্ণমন্দিরে আক্রমণ, আহত ৫
এই পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসার পরেই সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছে বিরোধীরা। তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছেন, “পাঁচ হাজারের বেশি অধ্যাপকের পদ ফাঁকা থাকা মানে দেশের উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ অন্ধকারে।” তিনি আরও বলেন, “শিক্ষাখাতে জিডিপির মাত্র ০.৩৭% বরাদ্দ করে সরকার উচ্চশিক্ষাকে ধ্বংস করছে, যেখানে ন্যূনতম ৬% বরাদ্দ না হলে উন্নয়ন সম্ভব নয়।” শিক্ষক সংকট শুধু কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় (Central University) পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় (Kendriya Vidyalaya) এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতেও শিক্ষকের অভাব প্রকট। বর্তমানে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়গুলিতে ৭,৪১৪টি শিক্ষক পদ এবং শিক্ষাকর্মীদের ১,৫৬৩টি পদ শূন্য রয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:- https://www.facebook.com/share/164mWXbsyp/
যে দেশ শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নতি করে “বিশ্বগুরু” (Vishwaguru) হওয়ার স্বপ্ন দেখে, সেখানে শিক্ষকদের এমন বিপুল সংকট গভীর চিন্তার বিষয়। অধ্যাপকদের এই অভাব সরাসরি পাঠদান ও গবেষণার মান কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে— ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষিত করে তোলার দায়িত্ব যদি উপযুক্ত হাতে না থাকে, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ কতটা নিরাপদ? সরকারের উচিত দ্রুত এই সংকট (Central University) কাটিয়ে তোলার জন্য উপযুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া (Recruitment Process) ও শিক্ষাক্ষেত্রে বাজেট বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা। নচেত, শিক্ষার মান নিম্নগামী হতে থাকবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অগ্রগতিকে ব্যাহত করবে।