নিউজ পোল ব্যুরো: প্রেমের টানে মানুষ কত কিছুই না করে। কিন্তু এক মহিলা কনস্টেবল (Female Constable) প্রেমের জন্য যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা রীতিমতো চমকপ্রদ। মথুরার (Mathura) এক সাহসী মহিলা কনস্টেবল তাঁর বান্ধবীর সঙ্গে জীবন কাটাতে চান। তবে সমাজের বাঁধা নিয়মে তাঁদের প্রেম সম্ভব নয়, তাই নিজেকে পুরুষে রূপান্তরিত (Gender Transition) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এই লক্ষ্যে দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) সদর দফতরে লিঙ্গ পরিবর্তনের (Sex Change) অনুমতি চেয়ে আবেদনও করেছেন।
আরও পড়ুন: Lalu Prasad Yadav: নিয়োগ দুর্নীতিতে স্ত্রী-পুত্র সহ লালু প্রসাদকে হাজিরার নির্দেশ ইডির
জানা গিয়েছে, মথুরার নৌঝিল এলাকার বাসিন্দা ওই মহিলা কনস্টেবল ২০১০ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। তিনি পরিবারের সঙ্গেই বসবাস করেন এবং কর্মক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ ও সাহসী বলে পরিচিত। তাঁর কড়া মনোভাবের জন্য সহকর্মীরা তাঁকে সম্মান করেন, এমনকি এলাকাবাসীর কাছেও তিনি জনপ্রিয়। তবে এই দৃঢ়চেতা পুলিশ সদস্যই এবার এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে। ওই মহিলা কনস্টেবলের প্রেমকাহিনি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। তবে জানা গিয়েছে, তিনি ও তাঁর বান্ধবী দীর্ঘদিন ধরেই পরস্পরের প্রতি গভীর টান অনুভব করেন। সমাজের প্রচলিত নিয়ম তাঁদের প্রেমকে মেনে নেয় না। তাই ভালবাসাকে বাস্তবে রূপ দিতে লিঙ্গ পরিবর্তনের কঠিন পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।
লিঙ্গ পরিবর্তন শুধু চিকিৎসাগত দিক থেকে জটিল নয়, এটি আইনি ও সামাজিকভাবেও বেশ কঠিন একটি প্রক্রিয়া। ভারতে লিঙ্গ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নানান আইনগত অনুমতি লাগে। বিশেষ করে সরকারি কর্মচারী (Government Employee) হলে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। তাই দিল্লি পুলিশ এই বিষয়ে মথুরা পুলিশের (Mathura Police) কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। এই ঘটনার পর মথুরা পুলিশের একটি বিশেষ দল ওই মহিলা কনস্টেবলের গ্রামের বাড়িতে যায়। সেখানকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে। পরিবারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে তেমন কিছু জানা যায়নি, তবে পুলিশ শীঘ্রই একটি বিস্তারিত রিপোর্ট দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) কাছে পাঠাবে। এরপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/
ভারতে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও এমন প্রেমের নজির দেখা গিয়েছে। রাজস্থানের ভরতপুর এলাকার সবিতা নামের এক তরুণী জয়পুরের (Jaipur) একটি কোচিং সেন্টারে পড়াশোনা করতেন। সেখানে পূজা নামের আরেকজন পড়ুয়ার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। প্রথমে বন্ধুত্ব, পরে প্রেম। সমাজের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে সবিতাও লিঙ্গ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন এবং তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
বর্তমানে সমাজ অনেক বদলেছে, তবে এখনও কিছু ট্যাবু রয়ে গিয়েছে। অনেক মানুষ এই ধরনের সম্পর্ককে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারেন না। তবে সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) এই কনস্টেবলের সাহসী সিদ্ধান্তের পাশে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই বলছেন, “সত্যিকারের প্রেমের কোনো বাঁধা থাকে না।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউবের লিঙ্ক: https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল দিল্লি পুলিশের সিদ্ধান্ত। সরকারি কর্মচারী হিসেবে তাঁর আবেদন গ্রহণ করা হবে কি না, তা নিয়েই চলছে আলোচনা। যদি অনুমতি দেওয়া হয়, তবে এটি ভারতের আইন ও সমাজের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির হতে পারে। তবে নেটিজেনদের (Netizens) একাংশ আশাবাদী, যুগ বদলেছে এবং প্রেমের জয় হবেই।