নিউজ পোল ব্যুরো: চা বাগানের জমি পর্যটনের কাজে ব্যবহারের সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবং বকেয়া মজুরি (Pending Wages) ও বোনাসের দাবিতে আজ শিলিগুড়িতে (Siliguri) বিশাল প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়। তরাই ও ডুয়ার্সের (Dooars) বিভিন্ন চা শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে সংগঠিত এই আন্দোলনে হাজার হাজার শ্রমিক অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: লন্ডন সফরে যাওয়ার আগে টাস্ক ফোর্স গঠন মুখ্যমন্ত্রীর
চা শ্রমিকদের মূল অভিযোগ, রাজ্য সরকার চা বাগানের ৩০ শতাংশ জমি পর্যটন শিল্পের (Tourism Industry) জন্য ব্যবহারের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা শ্রমিকদের জীবন ও বাসস্থানের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলবে। চা বাগানের (Siliguri) জমিই শ্রমিকদের একমাত্র জীবিকার উৎস। এই জমি পর্যটনের কাজে ব্যবহৃত হলে তাদের বসবাসের সুরক্ষা সংকটে পড়বে, পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। শ্রমিকরা দাবি জানান, এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। এছাড়াও, শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মজুরি বৃদ্ধির ও বকেয়া বোনাস পরিশোধের দাবি তোলেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। প্রতি বছর উৎসবের আগে শ্রমিকদের বোনাস নিয়ে টানাপোড়েন চলতে থাকে, যা এই শিল্পের শ্রমিকদের প্রতি অবিচার।

আজ সকাল থেকেই চা শ্রমিকরা শিলিগুড়ির জলপাই মোড়ে (Siliguri) জড়ো হতে থাকেন। সেখান থেকে একটি বিশাল মিছিল শুরু হয়, যার গন্তব্য ছিল উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক সদর দফতর উত্তরকন্যা। আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য ছিল সেখানে পৌঁছে সরকারকে তাঁদের দাবি জানানো। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা (Tight Security Arrangements) গ্রহণ করা হয়। তিনবাত্তি মোড় (Tinbatti More) এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন (Police Deployment) করা হয়। পুলিশের তরফ থেকে মিছিল থামানোর চেষ্টা করা হলে শ্রমিকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের আটকানো হয়।
নিউজ পোল বাংলার ফেসবুক পেজের লিঙ্ক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/
শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী, রাজ্য সরকারকে দ্রুত চা বাগানের জমি পর্যটনের জন্য ব্যবহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে। এই প্রতিবাদ মিছিলের মাধ্যমে চা শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর প্রতি নতুন করে নজর পড়েছে। রাজ্য সরকার তাদের দাবি মেনে নেবে কি না, তা এখন সময়ই বলে দেবে। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের সংগ্রাম চলবে।