নিউজ পোল ব্যুরো: বসন্ত শেষে প্রকৃতি জানান দিচ্ছে গ্রীষ্ম আসছে। এদেশে এই গ্রীষ্মের সন্ধ্যাগুলো বড়ই বিরক্তিকর। অফিস ফেরত গাড়ির জ্যাম, ভীড় ঠেলা প্যাচে প্যাচে গরম আর সঙ্গে উপরি পাওনা হিসেবে থাকে পাওয়ার কাট। আর এই একঘেঁয়ে রোজকার এপ্রিল-মে জীবনে পাক দিয়ে যাওয়া এক মিষ্টি মৃদুমন্দ বাতাস হয়ে আসে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL)। ‘ইয়ে হ্যা ইন্ডিয়া কা তোহার’ — সত্যিই আইপিএল ভারতীয় ক্রিকেটের (Indian Cricket) শ্রেষ্ঠ উৎসব। যা শুরু হচ্ছে আজ থেকে (KKR vs RCB)। আজ থেকে আগামী দুমাস রাস্তাঘাটে, অফিসে-বাসে মুঠোফোনের পর্দায় ধোনির (Mahendra Singh Dhoni) হেলিকপ্টার শট (Helicopter Shot) বা বুমরাহর (Jasprit Bumrah) ইয়র্কার (Yorker), আলোচনায়া বিরাটের (Virat Kohli) কভার ড্রাইভ (Cover Drive) বা বরুন চক্রবর্তীর (Varun Chakravarthy) ঘূর্ণি। ২০০৮ সালে যে ‘বাতাস’ (IPL)-এর জন্ম হয়েছিল আজ সে আঠারোয় পা রাখতে চলেছে (IPL 2025)। আজ সে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ভারত তথা বিশ্ব ক্রিকেটের আঙিনায়।
দীর্ঘ দশ বছর পর তিলোত্তমার বুকে হতে চলেছে আইপিএলের বোধন (KKR vs RCB)। আঠারোর স্পর্ধা স্মরণীয় করে রাখতে মঞ্চ তৈরি। কিন্তু মঞ্চ মাতাবেন কে? শ্রেয়া-দিশা-করণ? না সঞ্চালকের ভূমিকায় থাকা কিং খান? নাকি বিরাট কোহলি? সব দেখেশুনে অলক্ষ্যে বসে হাসছেন বরুণ দেব। কারণ মেঘ পিয়নের ব্যাগের ভেতর জমেছে একরাশ মন খারাপের দিস্তা। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস ছিল আগে থেকেই। সেইমত শুক্রবার রাতভর হল বৃষ্টি। আইপিএলের ‘এল ক্লাসিকো’ ‘র আগের দিন অনুশীলনই করতে পারল না কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। শনিবারও সকাল থেকেই আকাশের মুখভার। সেভাবে ঝেঁপে বৃষ্টি না হলেও মনে হচ্ছে যখন তখন কৃপা দৃষ্টি বর্ষাতে পারেন বরুণ দেব। সঙ্গে পবন দেবও রয়েছেন।

শুক্রবার রাতেই শহরে পা রেখেছেন নাইটদের বাদশা। বিমানবন্দরে শাহরুখকে ঘিরে যে উচ্ছ্বাস দেখা গেল তাতে হারানো ভরসা ফিরে পাবেন রিঙ্কু-রাসেলরা। নাহলে ‘কোহলি’ ‘কোহলি’ হাঁকডাকে বোঝা দায় ইডেন নাইটদের নাকি চ্যালেঞ্জার্সদের! শুক্রবার রাতে বিমানবন্দর থেকে সোজা ইডেনে মহড়া দিতে যাওয়ার কথা ছিল বলিউড তারকাদের কিন্তু বৃষ্টির কারণে তা আর সম্ভব হয়নি। শনিবারও জারি রয়েছে কমলা সতর্কতা। তাই ২০০৮ সালে এই দুই দলের মধ্যে আইপিএলের প্রথম ম্যাচে ব্রেন্ডন ম্যাকালাম নামের এক কিউয়ি ভদ্রলোক ঝড় তুললেও কোটি টাকার এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ১৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম ম্যাচে (KKR vs RCB) ঝড় তুলবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলেই আশঙ্কার দোলাচল ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে।

প্রকৃতি বাধ না সাধলে শ্রেয়া-করণের সুরের মূর্ছনা আর দিশা পাটানির নৃত্য ছাড়াও আসল আকর্ষণ অপেক্ষা করে আছে বাইশ গজে (KKR vs RCB)। আসলে আইপিএলে যে কটা রাইভালরি রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম কেকেআর বনাম আরসিবি। তা সে সূচনা লগ্নে ম্যাকালামের ১৫৮* রানের ইনিংস হোক বা ২০১৭ সালে বৃষ্টিভেজা মায়াবী ইডেনে আরসিবিকে আইপিএলের ইতিহাসে সর্বনিম্ন স্কোর ৪৯ রানে অলআউট করায় হোক বা সুনীল নারিনের উন্মত্ত ব্যাটিং সম্প্রতি এই লড়াই এক অন্যমাত্রা লাভ করেছে। গত মরশুমেও হর্ষিত রানার বলে আউট হয়ে অতিরিক্ত উচ্চতার কারণে নো-বল না পেয়ে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন বিরাট কোহলি। প্রাক ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে কোহলিদের কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার তো বলেই গেলেন, “এল ক্লাসিকোর মত ম্যাচ দিয়ে মরশুম শুরু করার তুল্য আর কিছুই হয় না।“

রজত পতিদারদের দলের বিরুদ্ধে শেষ ৭টি ম্যাচের (KKR vs RCB) ৬টিতেই জিতেছেন ভেঙ্কটেশ আইয়াররা। তাই এক সাংবাদিক আরসিসি কোচকে জিজ্ঞেস করলেন কেকেআর বিরুদ্ধে ম্যাচ তাদের কাছে ভয়ের কিনা, উত্তরে কোচ ফ্লাওয়ার বললেন, “অবশ্যই। তবে আমাদের জন্য না। কেকেআরের জন্য।“ বলেই হাসিতে ফেটে পড়লেন। যদিও ইডেন এখন আর দুর্গ নয় নাইটদের কাছে। ২০২৩ সাল থেকে ঘরের মাঠের মাত্র ৫০% খেলায় জিতেছে তারা। কারণ ইডেনের উইকেটের চরিত্র বদলে গেছে। আর কেকেআর প্রধান অস্ত্র নারিন-বরুণ সম্বলিত শক্তিশালী স্পিন ইউনিট। যা ঘুম কাড়তে পারে যেকোন বিপক্ষ দলের। অন্যদিকে এবার আরসিবির দলে রয়েছে ভুবি-হ্যাজলেউডদের মত অভিজ্ঞ পেসার।

ব্যাটিংয়ে কেকেআরের হয়ে ঝড় তুলতে প্রস্তুত নারিন-ডি-কক জুটি। মিডল অর্ডারে রাহানে, ভেঙ্কি, রিঙ্কু, রমনদীপরা রয়েছেন। ওপেনিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটার ডি কক আসায় ইনিংস তৈরির ক্ষেত্রে সুবিধা পাবে শাহরুখের দল। অন্যদিকে হাত চালিয়ে খেলতে পারবেন নারিন। কেকেআর সূত্রে খবর তিন নম্বরে নামবেন নয়া অধিনায়ক রাহানে আর চারে সহ-অধিনায়ক ভেঙ্কটেশ আইয়ার। তবে মূল লড়াই হবে কেকেআর স্পিনারদের সঙ্গে আরসিবি ব্যাটিংয়ের। অধিনায়ক রজত পতিদার, উইকেট রক্ষক জিতেশ শর্মা এবং বিরাট কোহলি ছাড়া আর ভাল স্পিন খেলিয়ে নেই বেঙ্গালুরুর দলে। নারিন এবং বরুণের বিরুদ্ধে কোহলির স্ট্রাইক রেট যথাক্রমে ১০৭.৬২ এবং ১০২.৫। নারিনর বিরুদ্ধে মোট ৪ বার আউট হয়েছেন কোহলি। রান করেছেন ১২৭। আর এখনও পর্যন্ত বরুণের বিরুদ্ধে ৩৯ টি বল খেলে ৪0 রান করেছেন তিনি। আউট হয়েছেন একবার। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে তাই কোহলিকে নিয়ে বিশেষ ভাবছেন না বলেই জানিয়ে দিলেন বরুণ। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে নতুন বলের ব্যবহার স্পিনারদের সুবিধা দেবে বলেই জানালেন তিনি।

পিচের কথা বলতে গেলে রানের ভূরিভোজ অপেক্ষা করে আছে ব্যাটারদের জন্য। একবারে ফ্ল্যাট উইকেট প্রস্তুত করেছেন ইডেনের পিচ কিউরেটর সুজন মূখার্জী। তবে আইপিএল মানেই পিচ বোলারদের বধ্যভূমিতেই পরিণত হয়। এ আর নতুন কিছু নয়। ব্যতিক্রম নয় ক্রিকেটের নন্দন কাননও। ২০২৩ সাল থেকে সবথেকে হাইস্কোরিং মাঠগুলির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ইডেন। ওভার প্রতি প্রায় ১০ -এর কাছাকাছি রান রেটে ব্যাট করেছে দলগুলি ইডেনে। শনিবারও তার অন্যথা হচ্ছে না। নাচ-গান থেকে রাসেল-রমনদীপ-পতিদার-কোহলিদের ব্যাটে ঝড় তোলার মঞ্চ (KKR vs RCB) প্রস্তুত, পকেট ফাঁকা করে আশায় বুক বেঁধেছেন শহরের ক্রিকেটপ্রেমীরাও কিন্তু শেষমেশ ঝড় তুলবে প্রকৃতি না শহর কলকাতা তা জানা যাবে সন্ধ্যাবেলাতেই।
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/
সম্ভাব্য একাদশ:
কেকেআর:
সুনীল নারিন, কুইন্টন ডি কক (উইকেট রক্ষক), অজিঙ্ক রাহানে (অধিনায়ক), ভেঙ্কটেশ আইয়ার, মণীশ পান্ডে/ অঙ্গকৃশ রঘুবংশী, রিঙ্কু সিং, আন্দ্রে রাসেল, রমনদীপ সিং, অনরিখ নোকিয়া/ র্স্পেন্সার জনসন, বৈভব আরোরা, বরুণ চক্রবর্তী এবং হর্ষিত রানা।
আরসিবি:
ফিল সল্ট, বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), দেবদত্ত পাড়িকাল, রজত পতিদার (অধিনায়ক), লিয়াম লিভিংস্টোন, জিতেশ শর্মা (উইকেট রক্ষক), টিম ডেভিড, ক্রুণাল পান্ড্য, ভুবনেশ্বর কুমার, জশ হ্যাজলেউড/ লুঙ্গি এনগিডি, জশ দয়াল, সুয়শ শর্মা/ রসিক দার সালাম।