নিউজ পোল ব্যুরো: পৃথিবীর সব দেশেই ক্রীড়াবিদরা তাঁদের ভক্তদের কাছে ভগবান বা তার থেকেও বেশি কিছু। তাই নিরাপত্তার ফাঁকফোকর গলে একবার ভগবানের ছোঁয়া পেতে তাঁদের কাছে পৌঁছে যান পাগল ভক্তরা। ঠিক এমনই পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের ঋতুপর্ণ পাখিরা (Rhituparno Pakhira)। সদ্য আঠারোয় পা রাখা ঋতুপর্ণ বিরাট কোহলির অন্ধভক্ত (Virat Kohli Fan)। ভগবান মানেন কোহলিকে (Virat Kohli)। তাই শনিবার ইডেনে (Eden Gardens) চলে গিয়েছিলেন কেকেআর বনাম আরসিবি (KKR vs RCB) ম্যাচ দেখতে। আর কোহলির অর্ধশতরান সম্পূর্ণ হতেই সব বেড়াজাল টপকে সোজা ঢুকে পড়েন মাঠের মধ্যে এবং গ্রেফতার হন কলকাতা পুলিশের হাতে। যে দৃশ্য ভাইরাল হয়েছে সমাজ মাধ্যমে।
আরও পড়ুন: KKR vs RCB: কলকাতার বুকে আরসিবি থুড়ি ‘কোহলি’ ঝড়
পুলিশ সূত্রে খবর শনিবার রাত ১০:২৭ মিনিট নাগাদ জি ব্লকে থাকা এক যুবক (Virat Kohli Fan) হঠাৎই নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ এড়িয়ে ঢুকে পড়েন ২২ গজে এবং কোহলির পা জড়িয়ে ধরে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেন তাঁকে। এরপরেই নিরাপত্তারক্ষীরা ধরে ফেলে মাঠের বাইরে নিয়ে আসে ঐ যুবককে। পরে জানা যায় ঋতুপর্ণ পাখিরা নামের ঐ যুবককে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩২৯ নম্বর ধারায় গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অনুপ্রবেশের মামলা রুজু করা হয়েছে।

এইবারই উচ্চমাধ্যমিক দিয়েছেন ঋতুপর্ণ (Virat Kohli Fan)। তাঁর মা কাকলি এবং দিদি প্রীতি জানান ছোট থেকেই ক্রিকেট পাগল সে। বর্ধমানের একটি ক্রিকেট ক্লাবে কোচিংও নিত এবং এখন বেলেঘাটার একটি ক্লাবে খেলে সে। তাদের কথায়, “বিরাট ওর কাছে ঈশ্বরের মতো। বাড়িতে বলেই গিয়েছিল যদি সুযোগ হয় বিরাট স্যারের পা ছুঁয়ে প্রণাম করব। আমরা বিরাট কোহলি এবং অন্যান্য খেলোয়াড়দের কাছে ওকে ক্ষমা করার জন্য অনুরোধ করছি।” করজোড়ে সাংবাদিকদের কাছে ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার আর্জি জানান ঋতুপর্ণর মা।
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/
রবিবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয় ঋতুপর্ণকে (Virat Kohli Fan)। কোর্ট চত্বরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “বিরাট আমার ঈশ্বর। তাঁর জন্য সবকিছু করতে পারি।“ আদালতে জজের সামনেও একই কথা জানান তিনি। এইধরণের ঘটনার ক্ষেত্রে বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থা বা বিসিসিআইয়ের নির্দিষ্ট কোন নিয়মনীতি নেই। তবে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে ঋতুপর্ণকে পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হয় যা মঞ্জুর করে একদিনের জন্য তাকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে এখানেই প্রশ্ন উঠছে পুলিশের এই ‘অতিসক্রিয়তার’ দিকে। যে রাজ্যে প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পান না সেখানে লঘু পাপে গুরু দন্ড ঘিরে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক বলে মনে করছে জনসাধারণ।