নিউজ পোল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর সোমবার কলকাতা হাই কোর্টে হয়েছে আরজি করে (RG Kar) কর্তব্যরত তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ-খুনের মামলার শুনানি। পরিবারের দায়ের করা মামলার শুনানির দিনেই ফের সিজিও অভিযানে ডাক্তার-নার্সরা। এই অভিযান ঘিরেই উত্তাপ বেড়েছে এলাকা চত্বরে। MSC,SDF,NU এর ডাকে সল্টলেকে সিজিও কমপ্লেক্স অভিযান ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন আন্দোলনকারীরা, এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি হয় বলেও খবর।
সোমবার সিজিও অভিযান ঘিরে সকাল থেকে তৎপর ছিল বিধাননগর পুলিশ। সকাল থেকেই সিজিও কমপ্লেক্স এর সামনে গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় সিজিও কমপ্লেক্সের গেট। মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। আন্দোলন কারীদের দাবী, “এখনও বিচারহীন ৭মাস! ন্যায়বিচারের পরিহাস! শুধুই সঞ্জয়? বাকী দোষীরা অধরা কেনো? সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দিতে ব্যর্থ অপদার্থ থ্রেট কালচারের অভিযুক্তরা শাস্তি পেল না কেন?” এই প্রশ্নগুলি তুলেই এদিন সরব হয়েছেন হয়েছেন আন্দোলনকারীরা। ন্যায়বিচারের দাবীকে তীব্রতর করার ডাক দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, আন্দোলনকারীরা সিজিও কমপ্লেক্স এর মেইন গেটের সামনে পৌঁছানোর আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয় মেনগেট। আন্দোলনকারীর সিজিও কমপ্লেক্সের ভেতরে ঢুকতে গেলে তাদেরকে বাধা দেয় পুলিশ। এরপরই শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে বচসা। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তেজিত হয়ে ওঠে। শেষে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল সিবিআই দপ্তরে প্রবেশ করেছে বলেই সূত্রে খবর মিলেছে। ৭ মাস পরেও কেন ‘অধরা’ বিচার। সেই অন্যায়ের বিচারের দাবিতে ফের পথে নেমেছেন চিকিৎসকরা।
আরও পড়ুনঃ RG Kar case: CBI-এর কাছে কেস ডাইরি তলব আদালতের, নতুন মোড় নেবে আরজি কর মামলা?

এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখা ভালো, সোমবারেই হাইকোর্টে আর জি কর-মামলার শুনানি হয়। সেখানেই সিবিআই-এর (CBI) উদ্দেশ্যে একাধিক প্রশ্ন করেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। শীর্ষ আদালত (Supreme Court) আগেই জানিয়ে দিয়েছিল আরজিকর মামলার (RG Kar case) শুনানি হবে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ নতুন করে তদন্তের আর্জি শুনবে। সেই নির্দেশ মতোই সোমবার হাইকোর্টে আর জি কর-মামলার শুনানি হয়। এদিন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ শুনানির শুরুতে সিবিআই-এর কাছে জানতে চান, “এটা গণধর্ষণ না ধর্ষণ? গণধর্ষণ হলে সন্দেহভাজন কারা?” বিচারপতি আরও প্রশ্ন, “আমরা এই আদালতে এটা জানতে চাইছি, পরে আর কী তদন্ত করলেন? একটা চার্জশিটের পর আর কোনও চার্জশিট দেননি।” তার পরেই বিচারপতি সিবিআই-কে বলেন, “রিপোর্ট দরকার নেই। দরকার কেস ডায়েরি।” আগামী শুক্রবারের মধ্যে আদালত সিবিআই-এর কাছে কেস ডায়েরি তলব করেছে। মামলা নিয়ে আদালতে সোমবার বিচারপতির মন্তব্য, “যেহেতু এই মামলায় একজনের সাজা হয়েছে, সেখানে কোন কোন ধারায় চার্জ গঠন করা হয়েছে ? সাজা প্রাপ্ত ব্যক্তিই কি একমাত্র অভিযুক্ত , নাকি আর কেউ আছে?” এই প্রশ্ন শুনে সিবিআই-এর তরফে আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার বলেন, “আমাদের আরেকটু সময় দেওয়া হোক।” তখনই বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “সব অফিসাররা তৈরি থাকলে আবার কী সমস্যা আপনাদের?” এর মাঝেই সওয়াল করেন লিগল এডের সঞ্জয়ের আইনজীবী কৌশিক গুপ্ত। তিনি বলেন, “যাকে দোষী করা হল, তাকে বলতে দিতে হবে।”
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:- https://www.facebook.com/share/164mWXbsyp/