নিউজ পোল ব্যুরো: শনিবার ইডেনে (Eden Gardens)কেকেআর বনাম আরসিবি (KKR vs RCB) ম্যাচে কোহলির অর্ধশতরান সম্পূর্ণ হতেই বেড়াজাল টপকে সোজা মাঠে ঢুকে পড়ে এক যুবক এবং গ্রেফতার হয় কলকাতা পুলিশের হাতে। যে দৃশ্য ভাইরাল হয় সমাজ মাধ্যমে। সোমবার ব্যাঙ্কশাল কোর্ট জামিন মঞ্জুর করল সেই ‘বিরাট’ ভক্তের (Virat Kohli Fan)।
আরও পড়ুন: Virat Kohli Fan: “বিরাট স্যার ক্ষমা করে দিন” কাতর আর্জি মায়ের
পুলিশ সূত্রে খবর শনিবার রাত ১০:২৭ মিনিট নাগাদ জি ব্লকে থাকা এক যুবক (Virat Kohli Fan) হঠাৎই নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ এড়িয়ে ঢুকে পড়েন ২২ গজে এবং কোহলির পা জড়িয়ে ধরে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেন তাঁকে। এরপরেই নিরাপত্তারক্ষীরা ধরে ফেলে মাঠের বাইরে নিয়ে আসে ঐ যুবককে। পরে জানা যায় ঋতুপর্ণ পাখিরা নামের ঐ যুবককে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩২৯ নম্বর ধারায় গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অনুপ্রবেশের মামলা রুজু করা হয়েছে।

এইবারই উচ্চমাধ্যমিক দিয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের পারাতল গ্রামের বাসিন্দা ঋতুপর্ণ (Virat Kohli Fan)। তাঁর মা কাকলি এবং দিদি প্রীতি জানান ছোট থেকেই ক্রিকেট পাগল সে। বর্ধমানের একটি ক্রিকেট ক্লাবে কোচিংও নিত এবং এখন বেলেঘাটার একটি ক্লাবে খেলে সে। তাদের কথায়, “বিরাট ওর কাছে ঈশ্বরের মতো। বাড়িতে বলেই গিয়েছিল যদি সুযোগ হয় বিরাট স্যারের পা ছুঁয়ে প্রণাম করব। আমরা বিরাট কোহলি এবং অন্যান্য খেলোয়াড়দের কাছে ওকে ক্ষমা করার জন্য অনুরোধ করছি।” করজোড়ে সাংবাদিকদের কাছে ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার আর্জি জানান ঋতুপর্ণর মা।
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/
রবিবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয় ঋতুপর্ণকে (Virat Kohli Fan)। কোর্ট চত্বরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “বিরাট আমার ঈশ্বর। তাঁর জন্য সবকিছু করতে পারি।“ আদালতে জজের সামনেও একই কথা জানান তিনি। এইধরণের ঘটনার ক্ষেত্রে বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থা বা বিসিসিআইয়ের নির্দিষ্ট কোন নিয়মনীতি নেই। তবে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে ঋতুপর্ণকে পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হয় যা মঞ্জুর করে একদিনের জন্য তাকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়।। তবে এদিন শর্তসাপেক্ষে তাকে জামিন দিল আদালত। চলতি আইপিএলে আর কোন ম্যাচ মাঠে গিয়ে দেখতে পারবে না সে। কোন টিকিট দেওয়া হবে না তাকে। এই শর্তে তার জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।
অন্যদিকে কলকাতা পুলিশের তীব্র সমালোচনা করেন বিচারপতি। নিরাপত্তায় ফাঁক থাকার কারণে আদালতের ভর্ৎসনার মুখে পড়ে পুলিশ। তবে এই ঘটনায় আদতে মুখ পুড়ল পুলিশেরই এমনটাই মত জনসাধারণের। যে রাজ্যে প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পান না সেখানে লঘু পাপে গুরু দন্ড দিতে গেলে আদলতে তার ধোপে টিকবে না বলেই মনে করছেন তারা।