নিউজ পোল ব্যুরো: গোপালপুর (Gopalpur) নাম শুনলেই অধিকাংশের মনে পড়ে ওড়িশার সেই সুদীর্ঘ বালুকাবেলার কথা, যেখানে বঙ্গোপসাগরের (Bay of Bengal) গর্জন যেন এক অপূর্ব সংগীতের মতো বাজে। কিন্তু আপনি কি জানেন, পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) মেদিনীপুর (Paschim Medinipur) জেলার বুকেও আছে এক গোপালপুর, যা প্রকৃতি ও ইতিহাসের এক অনন্য মিশ্রণ? যারা কলকাতা (Kolkata) বা শহরতলি থেকে দু’-এক দিনের মধ্যে প্রকৃতির কাছে হারিয়ে যেতে চান, তাঁদের কাছে এই গোপালপুর হয়ে উঠছে এক আকর্ষণীয় ডেস্টিনেশন (Destination)। শাল (Sal), শিমুল (Silk Cotton) আর পিয়ালের (Piyal) ঘন জঙ্গলে ঘেরা এই অঞ্চল আপনাকে দেবে এক অন্যরকম শান্তির আস্বাদ।

আরও পড়ুন:- Honeymoon Destination: হানিমুন প্ল্যান নিয়ে চিন্তা? কম বাজেটেই ঘুরে আসুন এই জায়গা থেকে
মেদিনীপুর (Paschim Medinipur) শহর থেকে মাত্র ৭-৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই পার্ক প্রবেশমূল্য দিয়ে ঢুকলেই চোখে পড়বে সুবিন্যস্ত গাছগাছালি। পার্কের ভেতরে রয়েছে এক সুন্দর পুষ্করিণী, যার পাশেই শুরু হয়েছে শালবন। পার্কটি প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক আদর্শ স্থান। গোপালপুরের কাছেই অবস্থিত কুন্দ্রামাতার থান, যা স্থানীয়দের কাছে এক জনপ্রিয় তীর্থস্থান। যাঁরা দেবী উপাসক, তাদের জন্য অবশ্যই দর্শনীয় স্থান এটি। কংসাবতী নদীর (Kangsabati River) উপর পাশাপাশি দুটি ব্রিজ, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক চমৎকার ভিউপয়েন্ট। নদীর ধারে বসে মন হারিয়ে যাওয়ার মতো পরিবেশ।
জমিদার বাঁধ (Zamindar Dam)
গ্রামীণ সৌন্দর্যে ভরা জমিদার বাঁধ, যেখানে জলাধারের স্বচ্ছ জলে পা ডুবিয়ে আরাম করে কিছুটা সময় কাটানো যায়। চারপাশের গাছপালা এবং পাখির ডাক এক মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করে। লালগড়ের জঙ্গল (Lalgarh Forest) অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য লালগড়ের জঙ্গল হতে পারে এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। পায়ে হেঁটে কিংবা টোটো ভাড়া করে ঘুরে দেখা যায় এই সবুজের রাজ্য। গোপালপুর শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত নয়, এটি ইতিহাসেরও সাক্ষী। গোপালপুরে দুটি একচালা শিবমন্দির রয়েছে—ভুবনেশ্বর ও গগনেশ্বর। মন্দিরগুলির টেরাকোটার (Terracotta) কারুকাজ আজও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। মন্দিরের দরজায় রয়েছে দ্বারপালের সুন্দর রিলিফ (Relief Sculpture)।
রাসমঞ্চ (Ras Mancha)
এই অঞ্চলে এখনও রাস এবং দোল উৎসব পালিত হয়, যেখানে ভক্তরা ভিড় করেন। রাসমঞ্চের তিনটি খিলান বিশিষ্ট অলিন্দ আজও অতীতের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে।
কর্ণগড় (Karnagarh)
যারা ইতিহাসপ্রেমী, তাঁদের অবশ্যই কর্ণগড় ঘুরে দেখা উচিত। এটি মেদিনীপুর শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। রানি শিরোমণির (Rani Shiromoni) নেতৃত্বে এখানেই ১৭৯৮ সালে ব্রিটিশদের (British) বিরুদ্ধে চুয়াড় বিদ্রোহ (Chuar Rebellion) হয়েছিল। বিদ্রোহ শেষে রানিকে বন্দি করা হয় এবং কর্ণগড়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

দণ্ডেশ্বর শিবমন্দির ও মহামায়ার মন্দির (Dandeshwar Shiva Temple & Mahamaya Temple)
পরিখা ঘেরা কর্ণগড়ের রাজাদের কুলদেবতা ছিলেন দণ্ডেশ্বর শিব এবং দেবী মহামায়া। কথিত আছে, রানি শিরোমণি প্রতিদিন গড় থেকে মহামায়ার মন্দিরে পুজো দিতে যেতেন। আজও (Pashchim Medinipur) স্থানীয় গ্রামবাসীরা সেখানে পুজো দেন।
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:- https://www.facebook.com/share/164mWXbsyp/
মেদিনীপুর রেলস্টেশন (Medinipur Railway Station) থেকে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় (Vidyasagar University) হয়ে গোপালপুর মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে। ধেরুয়া বা মুরাকাটা হয়েও যাওয়া যায়। কলকাতা থেকে গেলে কোলাঘাট (Kolaghat) পার হয়ে ডেবরা টোল প্লাজা (Debra Toll Plaza) পেরিয়ে কংসাবতী ব্রিজ হয়ে যেতে পারেন গোপালপুর।
কোথায় থাকবেন? (Where to Stay in Gopalpur)
গোপালপুর বায়োডাইভারসিটি পার্কের কটেজ (Biodiversity Park Cottages) চারটি কটেজ রয়েছে—তিনটি দ্বিশয্যা এবং একটি চারজনের জন্য। এখানে থাকা-খাওয়া মিলিয়ে খরচ মাথাপিছু দৈনিক ১৭০০-২০০০ টাকা। মৃত্তিকা (Mrittika) পশ্চিমবঙ্গ সরকারের (Government of West Bengal) পরিচালিত থাকার ব্যবস্থা, যা পর্যটকদের জন্য এক ভালো বিকল্প। রাঙামাটি যুব আবাস (Rangamati Yuba Abas) অন্য একটি স্বল্প খরচে থাকার ভালো অপশন। গোপালপুর (Gopalpur, Medinipur) শুধুমাত্র প্রকৃতি ভালোবাসার জায়গা নয়, এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অ্যাডভেঞ্চারের এক অনন্য সমাহার। যদি আপনি একটানা ব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি থেকে মুক্তি চান, তাহলে দু’-এক দিনের জন্য চলে আসতে পারেন এই প্রকৃতির কোলে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT