নিউজ পোল ব্যুরো: গত আইপিএলেই (IPL) বেশ কিছু অসম্ভব ম্যাচকে সম্ভব করে প্রীতি জিন্টার (Preeti Zinta) দলকে জয় এনে দিয়ে লাইমলাইটে এসেছিলেন মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) আশুতোষ শর্মা (Ashutosh Sharma)। এবার পুরনো দল তাঁকে ধরে রাখেনি। এবারে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকায় তাঁকে দলে নেয় দিল্লি ক্যাপিটালস (Delhi Capitals)। সোমবার দিল্লির হয়ে অভিষেকেই আশুতোষ বুঝিয়ে দিলেন পুরনো দল দাম না দিলেও তাঁর ব্যাটের ধার একটুও কমেনি নতুন মরশুমেও। ছাব্বিশ বছরের ডানহাতি অলরাউন্ডারের ব্যাটে ভর করে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে হারা ম্যাচ (DC vs LSG) ১ উইকেটে জিতে আইপিএল (IPL 2025) অভিযান শুরু করল দিল্লি ক্যাপিটালস।
আরও পড়ুন: KL Rahul: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পর আবারও সুখবর রাহুলের ঘরে
এদিন (DC vs LSG) প্রথমে ব্যাট করে মিচেল মার্শ এবং নিকোলাস পুরানের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ৮ উইকেট হারিয়ে ২০৯ রান করে সঞ্জীব গোয়েংকার দল। তবে রান আরও বাড়তে পারতো। কিন্তু মার্শ-পুরান জুটি যেভাবে শুরু করেছিলেন পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা তার ফায়দা তুলতে ব্যর্থ হয়। যারই সুবিধা নিয়ে গেল দিল্লি। ৪২ বলে ৮৭ রানের জুটি গড়েন মার্শ এবং পুরান। নয় ওভারেই ১০০ রানের গন্ডি অতিক্রম করে লখনউ। কিন্তু এই সময়ই মিচেল মার্শের উইকেট তুলে নিয়ে লখনউয়ের রানের গতিতে ব্রেক লাগান বাংলার মুকেশ কুমার।

দিল্লি থেকে আসা এলএসজির নয়া অধিনায়ক ঋষভ পন্থ ডাহা ফেল করলেন নতুন দলে এসেই (DC vs LSG)। শূন্য রানে ফিরে যান তিনি। পরের ওভারেই বিধ্বংসী পুরানকে সাজঘরের রাস্তা দেখান প্রাক্তন কেকেআর পেসার মিচেল স্টার্ক। এরপর আর কোন ব্যাটসম্যান জুটি গড়তে পারেননি। ২ বলে শূন্য রান করে রান আউট হয়ে ফিরে যান শার্দুল ঠাকুরও। যাঁকে মাত্র ৪৮ ঘন্টা আগে চোটগ্রস্ত মহসিন খানের বদলি হিসেবে দলে নেয় লখনউ। ব্যাট হাতে ব্যার্থ হন বাংলার শাহবাজ আহমেদও (৯)। দিল্লির হয়ে তিন উইকেট নেন স্টার্ক। দুটি উইকেট নেন কুলদীপ যাদব।

২১০ রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা মোটেও আহামরি হয়নি দিল্লির (DC vs LSG)। প্রথম ওভারেই দু’ উইকেট হারায় তারা। ব্যাট হাতে ‘ডাক’ করলেও বল হাতে ওপেনার জ্যাক ফ্রেশার ম্যাকগার্ক এবং তিনে নামা বাংলার অভিষেক পোড়েলের উইকেট তুলে নেন অলরাউন্ডার শার্দুল ঠাকুর। অধিনায়ক অক্ষর এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রিস্টান স্টাবস চালিয়ে খেললেও পর্যায়ক্রমে উইকেট হারাতে থাকে ডিসি। ৭ ওভারের মধ্যে অর্ধেক দিল্লি ডাগআউটে ফিরে যায়। স্ত্রী সন্তানসম্ভবা থাকায় এই ম্যাচ খেলেননি কে এল রাহুল। কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী অভিনেত্রী আথিয়া শেঠি।

এরপর দলের হাল ধরেন আশুতোষ এবং নবাগত বিপ্রাজ নিগম। আইপিএল অভিষেকে পাঁচটি ৪ এবং দুটি ৬ সহযোগে ১৫ বলে ৩৯ রান করে দলকে লড়াইয়ে রাখেন উত্তর প্রদেশের বছর কুড়ির তরুণ অলরাউন্ডার নিগম। বল হাতেও নিজের প্রথম ওভারেই এডেন মারক্রমকে আউট করেছিলেন তিনি। কিন্তু বিপ্রাজ যখন আউট হন তখনও দলের জয়ের জন্য প্রয়োজন ২৪ বলে ৪২ রান। হাতে ছিল মাত্র তিন উইকেট। তাতেও হাল ছাড়েননি আশুতোষ। একাই টানেন দলকে। পাঁচটি করে বাউন্ডারি এবং ওভার-বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৩১ বলে ৬৬ রান করে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে স্নায়ু ঠান্ডা রেখে ২ পয়েন্ট এনে দিলেন দলকে। অপরাজিত থাকলেন তিনি। ম্যাচের সেরাও তিনিই। আইপিএলের ইতিহাসে এটাই দিল্লির সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। লখনউয়ের হয়ে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন শার্দুল ঠাকুর, মনিমরণ সিদ্ধার্থ, দ্বিগেশ রাঠী এবং রবি বিষ্ণোই।

দিল্লি-লখনউ ম্যাচে (DC vs LSG) অনফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে অভিষেক ঘটল বাংলার অভিজিৎ ভট্টাচার্যের। ডেভিড মিলারের এলবিডব্লিউ আউট এবং নতুন দ্বিতীয় বল ব্যবহারের মত বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। এদিনের ম্যাচে তাঁকে ধরে মোট চারজন ছিলেন বাংলার। বাকি তিনজন হলেন অভিষেক পোড়েল (০), শাহবাজ আহমেদ (ব্যাট হাতে ৮ বলে ৯, বল হাতে ১.৩ ওভার বল করে ২২ রান দিয়ে শূন্য উইকেট) এবং মুকেশ কুমার (১/২২)। বাকি তিনজনের ব্যর্থতার দিনে আইপিএলের মঞ্চে বাংলার একমাত্র গৌরব চন্দননগরের অভিজিৎ।
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
লখনউ সুপার জায়ান্টস ২০৯/৮ (২০)
নিকোলাস পুরান ৭৫(৩০), মিচ মার্শ ৬২(৩৬)
মিচেল স্টার্ক ৩/৪২ (৪)
দিল্লি ক্যাপিটালস ২১১/৯ (১৯.৩)
আশুতোষ শর্মা ৬৬(৩১)*, বিপ্রাজ নিগম ৩৯(১৫)
শার্দুল ঠাকুর ২/১৯ (২)
দিল্লি ক্যাপিটালস জয়ী এক উইকেটে।