নিউজ পোল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদের ডোমকল (Domkal) আবারও চাঞ্চল্য। সোমবার বিকেলে থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে পুলিশের হাতে বেধড়ক মার খেয়েছেন খড়্গপুর আইআইটি (IIT Kharagpur)-র প্রাক্তন ছাত্র ও গবেষক ডক্টর ইমন কল্যাণ। এই ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই সমগ্র এলাকায় নিন্দার ঝড় উঠেছে।
জানা গিয়েছে, ইমন কল্যাণ তার ব্যাঙ্কের পাশবুক (হারিয়ে যাওয়ার জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিক তার অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেন। উল্টে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক থেকে স্ট্যাম্প আনতে বলেন।
ইমন কল্যাণ জানিয়েছেন, তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (Bank Account) খড়্গপুরের একটি শাখায় (Branch) খোলা ছিল, কারণ তিনি আইআইটিতে পড়াশোনা করার সময় সেই অ্যাকাউন্ট করেছিলেন। কিন্তু এই যুক্তি শুনেও থানার অফিসার অভিযোগ নিতে রাজি হননি। এর ফলে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় শুরু হয়। সেসময় থানার এসআই উজ্জ্বল বিশ্বাস সেখানে উপস্থিত হন এবং ইমন কল্যাণকে আলাদা একটি ঘরে যেতে বলেন। অভিযোগ, সেই ঘরে ঢোকানোর পর দরজা বন্ধ করে তাকে বেতের লাঠি (Baton) দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। ইমন কল্যাণ জানান, তিনি নিজের শিক্ষকতা ও গবেষণা পেশার কথা জানালেও অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার কোনওভাবেই নির্দয়তার পথ থেকে সরেননি।

প্রচণ্ড মারধরের ফলে তিনি শারীরিকভাবে গুরুতর আহত হন। তার হাত, পা এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে চাপচাপ কালো দাগ (Bruises) পড়েছে। পরে, তাকে থানার ভেতর কিছুক্ষণ আটকে রাখার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর ইমন কল্যাণ পুলিশের উচ্চ পর্যায়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এরইমধ্যেই ডোমকলের এসডিপিও শুভম বাজাজ বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অপরদিকে, ডোমকলের বিধায়ক (MLA) জাফিকুল ইসলাম পুলিশের এই আচরণে হতবাক। তিনি বলেন, “অন্য জায়গায় পুলিশের নির্যাতনের কথা শুনতাম, কিন্তু নিজের এলাকায় এই ঘটনা ঘটবে ভাবিনি। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে জানিয়ে দোষী পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাব।”
আরও পড়ুন: http://Jhargram Protest: কুড়মালি ভাষার স্বীকৃতিতে গর্জে উঠল আন্দোলন
স্থানীয় মানুষজন এই ঘটনার পর পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ (Protest) করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও (Social Media) বিষয়টি নিয়ে প্রবল চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকেই পুলিশের এই অন্যায় আচরণের বিচার দাবি করছেন। ডোমকলের এই ঘটনা আরও একবার পুলিশের দায়িত্বজ্ঞান ও মানবিকতার অভাবকে সামনে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, দোষী পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে আদৌ কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় কিনা, নাকি আগের মতোই বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়।
নিউজ পোল বাংলার ফেসবুক পেজের লিঙ্ক: https://www.facebook.com/share/p/1DvLRimP3Q/