দিনে শিক্ষকতা, রাত জেগে জোম্যাটোর ডেলিভারি! সরকারি স্কুলের শিক্ষকের জীবন চর্যা

দেশ শিক্ষা

নিউজ পোল ব্যুরো, পটনা: সরকারি স্কুলের শারীরশিক্ষার পার্শ্ব শিক্ষক হিসেবে কাজ করে মাস গেলে বেতন পান মাত্র ৮ হাজার টাকা। যেখানে অন্য শিক্ষকরা বেতন পান ৪২ হাজার টাকা! সংসার চালাতে বেকায়দায় পড়ে আজ সরকারি স্কুলের সেই শিক্ষক কাঁধে তুলে নিয়েছেন জ্যোমাটোর ব্যাগ। হ্যাঁ আজ তিনি সংসার চালাতে জোম্যাটোর ডেলিভারি বয় হিসাবে কাজ করে চলেছেন। স্কুল ছুটির পর গায়ে চাপিয়ে নেন, অনলাইন ডেলিভারি বয়ের পোষাক। পিঠে তুলে নেন ব্যাগ। তারপর ছুটে চলেন এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। বিকেল ৫টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত খাবার ডেলিভারির কাজ করেন।  

এই ঘটনা বিহারের ভাগলপুরের। প্রথমে এক বেসরকারি স্কুলে পড়াতেন অমিত কুমার। কিন্তু করোনার সময় তাঁর সেই চাকরি চলে যায়। প্রায় আড়াই বছর বেকার থাকার পর ২০২২ সালে সরকারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় পাশ করেন তিনি। এরপরে শারীর শিক্ষার শিক্ষক হিসেবে কাজের সুযোগ পান তিনি। কিন্তু মাস গেলে তাঁকে মাত্র ৮ হাজার টাকার বেতনের পার্শ্বশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়। এই টাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল অমিতকে। এরই মধ্যে আবার চলতি বছরের শুরুর চার মাস কোনও বেতন পাননি অমিত সহ ওই স্কুলের পার্শ্ব শিক্ষকরা। যে কারণে বন্ধুদের কাছ থেকে ধার করতে হয় তাঁকে। দিন দিন সেই ঋণের বোঝা বাড়তে থাকায় স্বাভাবিকভাবেই চিন্তায় পড়ে যান অমিত।

সংসার বাঁচাতে আরেকটু রোজগারের অন্য পথ খুঁজে বের করতে গিয়েই ফুড ডেলিভারি সংস্থায় কাজ করার পরামর্শ দেন অমিতের স্ত্রী। আর সেই মতো খোঁজখবর নিয়ে অমিত জানতে পারেন ফুড ডেলিভারির কাজে নির্দিষ্ট সময়ের কোন বাধ্যবাধকতা নেই। যার ফলে স্কুলে পড়ানোর পাশাপাশিই তিনি এই কাজ করতে পারবেন। এরপর আর সময় নষ্ট করেননি অমিত। জ্যোমাটোয় কাজের আবেদন জানান। সেখান থেকেই ফুড ডেলিভারি এজেন্টের কাজও পেয়ে যান তিনি। এখন স্কুল ছুটি হতেই জ্যোমাটোর জামা গায়ে চাপিয়ে নেন অমিত। অমিত জানান, ‘গত আড়াই বছর ধরে একই বেতনে শিক্ষকতা করে চলেছি। অন্য শিক্ষকেরা যেখানে মাসে ৪২ হাজার টাকা বেতন পাচ্ছেন, সেখানে আমার মতো পার্শ্ব শিক্ষকেরা মাত্র ৮ হাজার টাকায় চাকরি করছেন। মাঝে মধ্যে এই বেতনও ঠিক মতো মেলে না। এই টাকায় কি সংসার চলে?’ কিন্তু করোনা মহামারি তাঁকে জীবন যুদ্ধে প্রতিকূলতার মুখে ঠেলে দিলেও মনের জোর হারাননি অমিত কুমার। সংসার চালাতে তাই এখন শিক্ষকের পাশাপাশি ডেলিভারি বয়ের কাজ হাসিমুখেই করে চলেছেন অমিত কুমার। ডবল ইঞ্জিন সরকার চোখ বন্ধ করে প্রশাসন চালাচ্ছে! যেখানে একজন শিক্ষকের মাথা উঁচু করে বাঁচার অধিকারটুকুও নেই।