নিউজ পোল ব্যুরো: অনেকেই মনে করেন, হাই ওঠা মানেই ঘুম পেয়েছে। তবে আসল সত্যিটা কিন্তু এত সহজ নয়। ঘনঘন হাই ওঠা (Excessive Yawning Causes) শুধু ঘুমের সংকেত নয়, বরং এটি শরীরের কিছু বিশেষ শারীরিক ও মানসিক অবস্থার প্রতিফলনও হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাই ওঠার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে ঘুমের অভাব, ক্লান্তি, অক্সিজেনের ঘাটতি এবং মানসিক চাপ (Mental Stress) অন্যতম। তাই যদি আপনি নিয়মিতভাবে ঘনঘন হাই তুলতে থাকেন, তাহলে এটাকে অবহেলা না করে কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। আসুন জেনে নিই হাই ওঠার মূল কারণ এবং কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করা যায়। যদি রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম না হয়, তাহলে সকালে ঘনঘন হাই ওঠতে পারে। স্লিপ অ্যাপনিয়া (Sleep Apnea) বা ইনসমনিয়া (Insomnia) থাকলে শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না, যার ফলে ক্লান্তি ও হাই ওঠার প্রবণতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে স্লিপ অ্যাপনিয়ার ক্ষেত্রে ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্টের সমস্যা হয়, যা শরীরে অক্সিজেন সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করে এবং দিনের বেলায় অতিরিক্ত হাই ওঠে। ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে হলে প্রতি রাতে কমপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম প্রয়োজন। যদি ঘুমজনিত সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন:- Rachana Banerjee: তীব্র গরমে ফিট থাকার রহস্য ফাঁসে সাংসদ রচনা
অত্যধিক মানসিক চাপ (Stress) এবং শারীরিক ক্লান্তি (Fatigue) শরীরকে দুর্বল করে তোলে, যা ঘনঘন হাই ওঠার অন্যতম কারণ হতে পারে। যারা দীর্ঘ সময় ধরে পরিশ্রম করেন বা অতিরিক্ত মানসিক চিন্তায় থাকেন, তারা প্রায়ই এই সমস্যার সম্মুখীন হন (Excessive Yawning Cases)। মানসিক অবসাদ (Depression) এবং দুশ্চিন্তাও (Anxiety) হাই ওঠার কারণ হতে পারে। তাই স্ট্রেস কমাতে মেডিটেশন (Meditation), যোগব্যায়াম (Yoga) এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। হাই ওঠার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো আয়রনের ঘাটতি (Iron Deficiency)। শরীরে পর্যাপ্ত আয়রন না থাকলে হিমোগ্লোবিন (Hemoglobin) উৎপাদন কমে যায়, যা রক্তে অক্সিজেন পরিবহনে বাধা সৃষ্টি করে। অক্সিজেনের ঘাটতি হলে মস্তিষ্ক (Brain) পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন পায় না এবং সেই ঘাটতি পূরণ করার জন্য স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে হাই ওঠে। আয়রনের ঘাটতি থেকে রক্তশূন্যতা (Anemia) হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। এজন্য নিয়মিত আয়রনসমৃদ্ধ খাবার (Iron-rich Foods) খাওয়া জরুরি।
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:- https://www.facebook.com/share/164mWXbsyp/

স্বাভাবিক অবস্থায় হাই ওঠা কোনো সমস্যা নয়, তবে যদি এটি খুব বেশি হয় এবং এর সঙ্গে অন্যান্য উপসর্গ যেমন— মাথা ঘোরা (Dizziness), দুর্বলতা (Weakness), মনোযোগের অভাব (Lack of Concentration) বা শ্বাসকষ্ট (Breathlessness) দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এটি স্নায়বিক সমস্যা (Neurological Disorders), হৃদযন্ত্রের সমস্যা (Cardiovascular Issues) বা মস্তিষ্কের জটিলতার (Brain Dysfunction) ইঙ্গিতও হতে পারে।
হাই ওঠা কমানোর জন্য কিছু সহজ উপায় মেনে চলা যায়—
১) সঠিক ঘুমের রুটিন (Sleep Hygiene) বজায় রাখুন
২) প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগ্রত হওয়ার অভ্যাস করুন।
৩) ঘুমের আগে মোবাইল বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
৪) আরামদায়ক ও নিরিবিলি পরিবেশে ঘুমানোর ব্যবস্থা করুন।
৫) পুষ্টিকর খাবার খান (Nutritious Diet)
৬) আয়রনসমৃদ্ধ খাবার যেমন— পালং শাক, লাল শাক, কলিজা, ডিম, মুগ ডাল, চিড়া, কাজু বাদাম ইত্যাদি খাদ্যতালিকায় রাখুন।
৭) ভিটামিন বি১২ (Vitamin B12) এবং ফোলেট (Folate) সমৃদ্ধ খাবার খেলে রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করা যায়।
৮) পর্যাপ্ত জল পান করুন (Stay Hydrated)

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
হাই ওঠা একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া হলেও, যদি এটি অত্যধিক হয় এবং দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা সৃষ্টি করে, তাহলে এটি অবহেলা করা উচিত নয়। ঘনঘন হাই ওঠার কারণ অনিদ্রা, ক্লান্তি, অক্সিজেনের ঘাটতি, আয়রনের অভাব বা মানসিক চাপের কারণে হতে পারে (Excessive Yawning Causes)। তাই নিয়মিত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান, শরীরচর্চা ও মানসিক চাপ কমানোর মাধ্যমে সহজেই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। তবে যদি এটি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।