নিউজ পোল ব্যুরো: সম্প্রতি একের পর এক জীবনদায়ী ওষুধের (Health Department) মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হচ্ছে। বুকের ব্যথার ওষুধ র্যানোজেক্স থেকে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ টেলমা এইচ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেন্ট্রাল ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন তরফে জানা গিয়েছে, গত তিন মাসে ৩০০টিরও বেশি ওষুধ গুণগত মান পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হয়েছে। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) একাধিক সংস্থার ওষুধও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। ইতিমধ্যেই নিম্নমানের ওষুধের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে প্রশাসন।

স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, যে ওষুধগুলি পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হয়েছে, সেগুলোকে ‘নট স্ট্যান্ডার্ড কোয়ালিটি’ ওষুধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ধরনের ওষুধ যাতে কোনওভাবেই পাইকারি বা খুচরো দোকান থেকে বিক্রি না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য স্টেট ড্রাগ কন্ট্রোল অথরিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, রাজ্যের প্রতিটি ওষুধের দোকানে এই নিম্নমানের ওষুধের তালিকা প্রকাশ্যে ঝোলানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশ মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে ওয়েস্ট বেঙ্গল ড্রাগ কন্ট্রোল বোর্ড প্রতিটি ওষুধের দোকানে (Medicine Shops) হঠাৎ অভিযান চালাবে।
আরও পড়ুন: Deganga: তৃণমূল নেতার বাড়িতে পার্সেল বোমাতঙ্ক
বেঙ্গল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, কিছু অসাধু সংস্থা এতটাই নিখুঁতভাবে নকল ওষুধ তৈরি করছে যে আসল ও নকলের পার্থক্য সাধারণ চক্ষে বোঝা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই কারণে, ওষুধ ব্যবসায়ীরাও অনেক সময় বুঝতে পারছেন না কোন ওষুধ আসল এবং কোনটি জাল।
নকল ওষুধ নির্মাতারা এতটাই দক্ষ হয়ে উঠেছে যে তারা প্যাকেজিং থেকে ওষুধের গঠন সব কিছুই আসলের মতো করে বানিয়ে ফেলছে। এতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েরই প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। তাই, যদি কোনও দোকান থেকে কেনা ওষুধ কার্যকর মনে না হয় বা দীর্ঘদিন সেবনের পরেও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া যায়, তবে ইমেলের (Email) মাধ্যমেও অভিযোগ করা যাবে।

হেল্পলাইন নম্বর:
☎ ২২২৫-২২১৩ / ২২২৫-২২১৪
অভিযোগ জানানোর ইমেল ঠিকানা:
[email protected]
রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর ও ড্রাগ কন্ট্রোল বোর্ড (Health Department) এখন বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে যাতে নিম্নমানের ওষুধ বাজার থেকে সরিয়ে ফেলা যায়। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনওভাবেই নিম্নমানের ওষুধ মানুষের হাতে পৌঁছানো চলবে না। এই ধরনের ওষুধ যাতে জনগণের ক্ষতি না করে, তা নিশ্চিত করতে হলে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। সন্দেহজনক কিছু দেখলেই উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে জানানো জরুরি। সরকারি এই উদ্যোগ সফল হলে, ভেজাল ওষুধের বিরুদ্ধে লড়াই অনেকটাই সহজ হবে।
নিউজ পোল বাংলার ফেসবুক পেজের লিঙ্ক: https://www.facebook.com/share/p/19yxW4Z2C2/