Contai Co Operative Bank Election: দিনভর উত্তেজনা, কাঁথি সমবায় ব্যাঙ্কের ভোটে সবকটি আসনে জয়ী তৃণমূল

breakingnews জেলা রাজ্য

মিলন পন্ডা, পূর্ব মেদিনীপুরঃ শনিবার কাঁথি কৃষি সমবায় ব্যাঙ্কের (Contai Co Operative Bank Election) নির্বাচনে সুপ্রকাশ গিরির হুমকি ও পুলিশের হাতে অখিল গিরির আক্রান্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে ওঠে এলাকা। সকাল থেকেই কাঁথির সমবায় নির্বাচন ঘিরে দফার দফায় অশান্তির খবর মিলেছিল। প্রতিটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র থেকে দূরেই ঘাঁটি গেড়ে বসেছিল তৃণমূল (TMC) ও বিজেপি (BJP)। কোথাও ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আবার কোথাও স্লিপ কাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ নিয়েই মিটলো কাঁথি কৃষি সমবায় ব্যাঙ্কের নির্বাচন (Election)। শেষ পর্যন্ত শনিবার বিকেলে সমবায়ের সবকটি আসনেই জয়লাভ করল শাসক দল তৃণমূল।

শনিবার সকাল থেকেই কৃষি সমবায় ব্যাঙ্কের নির্বাচনে জিততে মরিয়া হয়ে ওঠে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থিত উভয় রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে কোনভাবেই খাতা খুলতে পারেনি বিজেপি। শনিবার বিকেলে এই সমবায়ের ৭৮ টি আসনেই জয়লাভ করে শাসক দল তৃণমূল। শনিবার সকালে কাঁথি জাতীয় বিদ্যালয়ের সামনে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছান কাঁথি পুরসভার পুরপ্রধান সুপ্রকাশ গিরি। উত্তেজনার মধ্যে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি। কোনওক্রমে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিজেপি নেতৃত্বদের অভিযোগ, কাঁথি পুরসভা পুরপ্রধান সুপ্রকাশ গিরি সামনে দাঁড়িয়ে থেকেই ভোট লুট করার জন্য হামলা চালিয়েছেন। প্রকাশ্যে বিজেপি কর্মীদের মুখ ফাটিয়ে রেখে দেবো হুমকি দিতে শোনা যায় সুপ্রকাশ গিরি’কে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন কাঁথি পুরসভার পুরপ্রধান সুপ্রকাশ গিরি। তাঁর দাবি “চোরের মা বড় গলা। জনগন নেই, জনসমর্থন নেই। পিঠ বাঁচানোর জন্যই শুভেন্দুবাবুর মান সম্মান বাঁচাতে হবে। তার অনুগামীরা এমন কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে। মানুষ সুষ্ঠু ভাবে ভোট দিচ্ছে।” ভোটগ্রহণ নিয়ে রামনগর কলেজে অশান্তির খবর পেয়ে ছুটে যান বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অখিল গিরি। সেখানে গিয়ে রাজ্যে পুলিশের হাতে নিজেকে আক্রান্ত হয়েছেন বলেও অভিযোগ সামনে আনেন।

এদিন অখিল গিরি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে (Contai Co Operative Bank Election) প্রবেশ করতেই সেখানে উত্তেজিত হয়ে পড়েন অখিল। এরপর পুলিশ তাকে ধরে বের করে দেয় ওই এলাকা থেকে। ঘটনায় ডান হাতের কনুইয়ে আঘাত পান অখিল। এরপর স্থানীয় ডিএসপি (ডিএনটি) আবু নুর হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন অখিল গিরি। তিনি বলেন ” পুলিশ আমাদের গায়ে হাত তুলেছে। এখানে বিজেপি নেই। কিন্তু পুলিশ তৃণমূলের ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দিচ্ছে “। যদিও এই ঘটনায় পুলিশের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অপরদিকে এগরাতেও তৃণমূলের ভোটারদের স্লিপ ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিজেপি’র বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় রুখে দাঁড়ান স্থানীয় বিধায়ক তরুণ কুমার মাইতি। বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। সবমিলিয়ে, সকাল থেকেই উত্তেজনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে কাঁথি সমবায় ব্যাঙ্কের নির্বাচন। এই সমবায় ব্যাঙ্কের একসময় চেয়ারম্যান ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

আরও পড়ুনঃ Ram Navami: কিভাবে রামনবমীতে অশান্তি ছড়ানো হতে পারে, জানিয়ে রাজ্যবাসীকে সতর্কবার্তা WB Police-এর

শনিবার বিকেলে দেখা গেল সেই ব্যাঙ্কের নির্বাচনে একটি আসনেও খাতা খুলতে পারেনি বিজেপি। সবকটি আসন তৃণমূলের দখলে গেছে । ৭৮ টি আসনের ৬৫টি আসনে নির্বাচন হয় শনিবার। বাকি আসন গুলিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিল তৃণমূল। বলাই বাহুল্য যে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাড়তি অক্সিজেন পেল শাসক দল। কাঁথি শহর যুব তৃণমূলের সভাপতি সুরজিৎ নায়ক বলেন ” এই জয় মানুষের জয়। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আস্থা। অবাদ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে।” তবে এই ভোট নিয়ে কাঁথি পুরসভা ১৭ নং ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর তাপস দলাই বলেন, “ভোটারদের প্লিপ ও আইকার্ড কেড়ে নিচ্ছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে, আমাদেরকে ধাক্কাধাক্কি করে। আমাদের বুধ ভাঙচুর করে। পুলিশ এসে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলো। কাঁথি পুরসভা পুরপ্রধান সুপ্রকাশ গিরি নেতৃত্বে এমন হামলা চালিয়েছে। পুরসভা ও পঞ্চায়েত ভোট যেরকম হয়েছে, সেরকম ভোট করা জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছে।”

নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:- https://www.facebook.com/share/164mWXbsyp/