নিউজ পোল ব্যুরো: ভূমিকম্প (Earthquake) – প্রকৃতির এমন এক ভয়ংকর শক্তি, যা মুহূর্তের মধ্যেই বদলে দিতে পারে ভূপ্রকৃতি ও মানুষের জীবন। সাম্প্রতিক মায়ানমারের (Myanmar Earthquake) ভূমিকম্পের পরে এই প্রশ্ন অনেকের মনেই জেগেছে—বাঁকুড়া (Bankura) ও পুরুলিয়া (Purulia) কি ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা? ভূমিকম্পের ফলে এই অঞ্চলে কতটা ঝুঁকি রয়েছে?(Earthquake in Bankura-Purulia) এই দুই জেলার মাটির প্রকৃতি, ভূগর্ভস্থ ফল্ট লাইন (Fault Line) এবং ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস কী বলছে? বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া ভারতের অন্যতম প্রাচীন ভূ-ভাগ ছোটনাগপুর মালভূমির (Chotanagpur Plateau) অংশ। ভূমিকম্প প্রবণতার নিরিখে এই এলাকা জোন টু (Seismic Zone II)-এর মধ্যে পড়ে, যা তুলনামূলকভাবে কম বিপজ্জনক হলেও ভূমিকম্পের ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
আরও পড়ুন:- AI-CCTV Kolkata: নগর নিরাপত্তায় অত্যাধুনিক AI-সমৃদ্ধ সিসিটিভি
বাঁকুড়া জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূতাত্ত্বিক উপাদান হল পিংলা ফল্ট (Pingla Fault), যা দক্ষিণে মেদিনীপুর (Medinipur) থেকে শুরু করে উত্তরে হিমালয়ের (Himalayan Fault System) সঙ্গে যুক্ত। এই ফল্ট লাইনের উপস্থিতির কারণে মৃদু ভূমিকম্প (Tremor) অনুভূত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ব বাঁকুড়ার শিলার গঠন ও ভূপ্রকৃতি পশ্চিম বাঁকুড়ার তুলনায় অনেক বেশি ভূমিকম্প প্রবণ। এর কারণ হল পূর্ব বাঁকুড়ার ভূমি অপেক্ষাকৃত নিচু এবং শিলার স্থূলতা কম, যা ভূমিকম্পের সময় বেশি কাঁপনের কারণ হতে পারে। বাঁকুড়া খ্রিস্টান কলেজের (Bankura Christian College) ভূগোল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত পান জানান, “মায়ানমারের ভূমিকম্পের সঙ্গে বাঁকুড়ার কোনও সরাসরি যোগসূত্র নেই। তবে ভূতাত্ত্বিক কারণেই বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা নস্যাৎ করা যায় না।”(Earthquake in Bankura-Purulia) তিনি আরও জানান যে অবৈধ নির্মাণ (Illegal Constructions) ও দুর্বল কাঠামোগত পরিকল্পনা (Weak Structural Planning) ভূমিকম্পের সময় বিপদ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:- https://www.facebook.com/share/164mWXbsyp/
যদিও বাঁকুড়ায় বড় ধরনের ভূমিকম্পের নজির খুব বেশি নেই, তবু ২০১৯ সালে ৪.৮ রিখটার স্কেলের (Richter Scale) একটি ভূমিকম্প এখানে অনুভূত হয়েছিল। এই ভূমিকম্পের মূল উৎপত্তি ছিল পিংলা ফল্টের কাছাকাছি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ভূমিকম্প ভবিষ্যতে আবারও হতে পারে। যদিও বড় মাপের ভূমিকম্পের সম্ভাবনা কম, তবুও ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং প্লেট টেকটনিক্স (Plate Tectonics) যে কোনো সময় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, যেকোনো নতুন নির্মাণের আগে ভূতাত্ত্বিক পরামর্শ (Geological Consultation) নেওয়া জরুরি। বিশেষত ভূমিকম্প সহনশীল (Earthquake Resistant) স্থাপত্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুব্রত পান আরও বলেন, “পৃথিবীর কোনও জায়গা ভূমিকম্প মুক্ত নয়! সঠিক পরিকল্পনা এবং সচেতনতা থাকলে আমরা বিপর্যয়কে অনেকটাই সামলাতে পারব।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া আপাতদৃষ্টিতে খুব বেশি ভূমিকম্প প্রবণ নয়, (Earthquake in Bankura-Purulia) তবে পিংলা ফল্টের উপস্থিতি এবং অতীত ভূমিকম্পের রেকর্ড আমাদের সতর্ক থাকার সংকেত দেয়। অবৈধ নির্মাণ, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং ভূতাত্ত্বিক উপেক্ষা ভবিষ্যতে বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তাই সচেতনতা এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।