নিউজ পোল ব্যুরো: দুর্নীতির (Corruption) বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। এই নীতির ভিত্তিতেই পানিহাটি পুরসভার (Panihati Municipality) চেয়ারম্যান মলয় রায়কে (Moloy Roy) পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) সরাসরি ফোন করে তাঁকে পদ ছাড়তে বলেন। তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance) নীতি গ্রহণ করেছে। সেই সূত্রেই দলের উচ্চ নেতৃত্ব পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আরও পড়ুন:Medical College: মেডিক্যাল কলেজে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ, গ্রেফতার ১
বিগত কিছু দিন ধরেই পানিহাটি পুরসভায় (Panihati Municipality) অমরাবতী বিষয়ক উত্তেজনা চলছে, যা রাজ্য রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান মলয় রায়কে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে, তিনি ওই নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘আমি কী এমন ভুল করেছি, যার জন্য পদ ছাড়তে হবে? পুরো বিষয়টি বুঝে পদত্যাগ করার প্রশ্ন উঠছে না।’
এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, মলয় রায় কেন দলের নির্দেশ অমান্য করে এমন সাহস দেখাচ্ছেন? উল্লেখ্য, তৃণমূল সুপ্রিমো এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার পরিষ্কার করে বলেছেন, কোনও রকম দুর্নীতি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হলে, দলের নেতা থেকে শুরু করে আমলাদেরও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন:Hyderabad: একই পরিবারের ৪ জনের দেহ উদ্ধার
পানিহাটি পুরসভার (Panihati Municipality) অমরাবতী মাঠের ইস্যুতে উত্তেজনা তৈরি হয়, যেখানে প্রায় ৮৫ বিঘা জমি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নামে নিবন্ধিত। সেখানে জমি বিক্রি হওয়ার গুঞ্জন ওঠে এবং এর সঙ্গে মলয় রায়ের নাম যুক্ত হয়। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। মলয় রায় জানান, ‘আজ আমাকে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ফোন করে পদত্যাগ করতে বলেছেন। আমি পদত্যাগ করব, তবে জানতে চেয়েছি, আমার অপরাধ কী? অমরাবতী মাঠের বিষয়ে বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গেছে, এবং তিনি পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। আমি দলের কর্মী, তাই যা বলা হবে, তা করব।’
তবে, মলয় রায়ের দাবি, তাকে ফাঁসানো হয়েছে এই ব্যাপারে। তিনি বলেন, ‘অমরাবতী মাঠ একটি ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনে এবং এটি বিক্রি করা যায় না। কিছু লোক ভেবেছে এটি বিক্রি হচ্ছে, অথচ আমি শুধু একটি স্টেডিয়াম এবং কমিউনিটি হলের দাবি জানিয়েছিলাম। কিছু লোক মনে করেছিল আমি সব কিছু হাতিয়ে নিচ্ছি, তাই তারা আমাকে এই পরিস্থিতিতে ফাঁসিয়েছে।’ মলয় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানানোর পরেও, কবে পদত্যাগ করবেন, সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এখনও সিদ্ধান্ত নিইনি।’
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:https://www.facebook.com/share/1XhiZuM5DK/