নিউজ পোল ব্যুরো: হল না শেষরক্ষা। বুধবার এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ (AFC Challenge League) কোয়ার্টার ফাইনালের (Quarter Final) দ্বিতীয় লেগে (Second Leg) এফসি অর্কাদগের (FK Arkadag) বিরুদ্ধে মরণ-বাঁচন ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে পারল না ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। আইএসএল (ISL) হাতছাড়া হওয়ার পর এশিয়ার মঞ্চে কিছু করে দেখানোই মূল লক্ষ্য ছিল লাল-হলুদের। কিন্তু এদিন প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকার পরেও শেষমেশ ২-১ গোলে হেরে গেল ব্রুঁজোর দল। এর আগে প্রথম সাক্ষাতে যুবভারতীতে (VYBK) ১১ মিনিটে গুরবানো জাজগিলিচের (Gurbanov Yazgylych) গোলে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল অর্কাদগ। ফলে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ গোলে জিতল তারা।
আরও পড়ুন: East Bengal FC: মাঠের বাইরের লড়াই সামলে মাঠের লড়াই জেতার চ্যালেঞ্জ
তুর্কমেনিস্তানে পা রাখা ইস্তক নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল সউল ক্রেসপো-দিয়ামান্তাকোসদের। বিমানবন্দরে অতিরিক্ত সময় অপেক্ষা থেকে কার্যত হোটেল বন্দি হয়ে থাকতে হয়েছিল তাদের। খাওয়া-দাওয়া নিয়েও ছিল বিস্তর অভিযোগ। অনুশীলনের জন্য নিম্নমানের মাঠ দেওয়া হয় তাদের। পরিবহনের ক্ষেত্রেও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয় তাদের। নতুন পরিবেশ এবং বাইরের এইধরণের প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়ে অর্কাদগকে ২-০ গোলের ব্যবধানে হারানো কার্যত অ্যাসিড টেস্ট ছিল অস্কার ব্রুঁজোর দলের (East Bengal) কাছে। এতকিছু প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ম্যাচের শুরু থেকেই লড়াইয়ের তাগিদ দেখা যায় রাকিপ-সৌভিকদের মধ্যে।

সাংবাদিক সম্মেলনে শুরু থেকেই দলকে আক্রমণে ঝাঁপানোর কথা বলেছিলেন অস্কার ব্রুঁজো। কোচের কথামত মাত্র ২ মিনিটেই ইস্টবেঙ্গলকে (East Bengal) এগিয়ে দেন মেসি বাউলি। দিয়ামান্তাকোসের শট অর্কাদগ গোলরক্ষক চায়েভ রসুলের হাতে লেগে এসে পড়ে মেসির পায়ে। অর্কাদগ জালে বল জড়াতে ভুল করেননি মেসি। তবে প্রথমার্ধেই আরও গোল করতে পারত ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু রিচার্ড সেলিস যেভাবে একের পর এক গোলের সুযোগ হারালেন তা চিন্তায় রাখবে স্যার ব্রুঁজোকে। এরপর ৩৩ মিনিটের মাথায় নুঙ্গা লাল কার্ড দেখলে দশ জনে হয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। লাল কার্ড দেখার রেকর্ড গড়ে ফেলেছে তারা। আইএসএল হোক বা এএফসি লাল কার্ড যেন পিছুই ছাড়ছে না তাদের।
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/
এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের শেষ চারে পৌঁছাতে হলে বুধবার অর্কাদগকে ২-০ গোলে হারাতে হত হেক্টর ইয়ুস্তেদের। ১-০ গোলে জিতলে অতিরিক্ত সময় এবং শেষমেশ টাইব্রেকারে গড়াত ম্যাচ। ৮৭ মিনিট পর্যন্ত সেই কাজটাই করে গিয়েছিল দশজনের ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। কিন্তু তাল কাটল পেনাল্টি বক্সের মধ্যে সৌভিক চক্রবর্তীর ফাউল এবং আন্নাদুরদিয়েভের নির্ভুল ফিনিশ। স্বপ্ন শেষ সেখানেই। এরপর আর ঘুরে দাঁড়ানো কার্যত অসম্ভব ছিল ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে। সংযুক্ত সময়ের শেষ মিনিটে লাল-হলুদের মশাল নিভিয়ে আরও একটি গোল করে যান অর্কাদগের হাইডায়রো।