Uttar Dinajpur: শুধু শখ নয়, সমাজসেবাও এই বৃদ্ধ বয়সে

জেলা

নিউজ পোল ব্যুরো: “একটি গাছ, একটি প্রাণ”—এই ভাবনাকে সঙ্গী করে উত্তর দিনাজপুরের (Uttar Dinajpur) কালিয়াগঞ্জ পুরসভার স্কুলপাড়া এলাকার বাসিন্দা, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী চন্দন মজুমদার (Chandan Majumdar) তার বাড়ির ছাদকে (Rooftop Garden) পরিণত করেছেন এক অপূর্ব সবুজ জগতে। তিনি শুধু গাছ লাগিয়েই থেমে থাকেননি, বরং তার মাধ্যমে সমাজের প্রতি এক সুন্দর বার্তা দিয়েছেন—গাছ শুধু প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে না, মানুষের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চন্দন মজুমদারের বাড়ির ছাদে আজ ৭-৮টি বেদানার (Pomegranate) গাছ রয়েছে। পাশাপাশি তিনি আরও বিভিন্ন প্রকারের ফল ও সবজি চাষ করেন, যার মধ্যে আম (Mango), বেগুন (Brinjal), টমেটো (Tomato), ক্যাপসিকাম (Capsicum), লঙ্কা (Chili), ব্রকলি (Broccoli) ইত্যাদি অন্যতম। তার ছাদের কিছু অংশে তিনি কংক্রিটের চৌবাচ্ছা (Concrete Planter) তৈরি করে সেখানে গাছ লাগিয়েছেন, আবার কিছু গাছ টবে (Pots) রোপণ করেছেন।

আরও পড়ুন:-https://thenewspole.com/2025/03/12/voter-card-aadhaar-linking-election-commission-new-directive/

তিনি মনে করেন, অনেক বয়স্ক মানুষ (Senior Citizens) অবসরের পর বাড়িতে থেকে একাকীত্বে ভুগে মানসিক চাপ (Mental Stress) বা মনোবেদনার শিকার হন। অথচ, তারা চাইলে ছাদে বা বাড়ির আশেপাশে যদি গাছ লাগান, তাহলে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে (Physical & Mental Health) সুস্থ থাকতে পারবেন। তার মতে, গাছের যত্ন নেওয়া শুধুমাত্র একটি শখ নয়, এটি এক ধরনের থেরাপিও (Therapeutic Gardening) যা একাকীত্ব দূর করে এবং মনকে প্রশান্তি দেয়। ছাদে গাছ লাগানোর ফলে পোকামাকড়ের (Pest Control) সমস্যা তুলনামূলকভাবে কম হয় এবং পরিচর্যা করাও সহজ হয়। চন্দনবাবু বলেন, বয়সের কারণে দিনের বেলা অতটা পরিচর্যা করতে পারেন না, তাই বেশিরভাগ সময় রাতেই গাছের যত্ন নেন। তার বাগানে উৎপন্ন ফলমূল তিনি বিক্রি করেন না। বরং সমাজের নানা স্তরের মানুষের মাঝে তা বিনামূল্যে বিতরণ করেন। বিশেষ করে, স্থানীয় (Uttar Dinajpur) নাট মন্দির (Temple), ভারত সেবাশ্রম (Bharat Sevashram) এবং হাসপাতালে (Hospitals) তিনি ফল দান করেন। পাশাপাশি, অনেক বয়স্ক মানুষকে (Elderly People) তিনি তার ছাদবাগান দেখে অনুপ্রাণিত হতে বলেন এবং পরামর্শ দেন।

নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:-https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/

তিনি আহ্বান জানান, যারা বাড়িতে বসে একাকীত্বে ভোগেন, তারা যদি একটু ইচ্ছে দেখান এবং ছাদ বা আঙিনায় (Backyard Gardening) গাছ লাগান, তাহলে শারীরিক ও মানসিকভাবে ভালো থাকবেন। এছাড়া, কেউ যদি এই বিষয়ে তার থেকে কোনো সহযোগিতা (Gardening Assistance) চান, তিনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত। চন্দন মজুমদারের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে পরিবেশের (Environment) জন্য যেমন ইতিবাচক, তেমনই সমাজের জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে। তার এই সবুজ যাত্রা (Uttar Dinajpur) আমাদের সবাইকে গাছ লাগানোর এবং প্রকৃতির যত্ন নেওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করে।