মিলন পন্ডা, পূর্ব মেদিনীপুর: সমুদ্রতীরবর্তী বাঁকিপুট এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা শতাব্দীপ্রাচীন এক আলোকস্তম্ভ (Bankiput Lighthouse) আজও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রয়েছে। কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের জুনপুট-দৌলতপুর পাকা রাস্তা ধরে এগোলেই চোখে পড়ে এই আলোকস্তম্ভ, যা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘দিশারী’ (Dishari) নামে। একসময় সমুদ্রগামী জাহাজের (Ships) দিশা দেখাত এই বাতিঘর, তবে বর্তমানে সেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় প্রবীণদের মতে, ব্রিটিশ আমলে (British Era) তৈরি এই আলোস্তম্ভটির উচ্চতা প্রায় ৬০ ফুট। এটি তৈরি হয়েছিল চুন-সুরকি দিয়ে এবং এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল পোর্ট ট্রাস্টের (Port Trust) হাতে। একসময় এর চূড়ায় থাকা ভেপার ল্যাম্প (Vapor Lamp) আলো ছড়িয়ে সমুদ্রে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নাবিকদের পথ দেখাত। পোর্ট ট্রাস্টের কর্মীরা মাসে একবার লোহার সিঁড়ি (Iron Ladder) বেয়ে উঠে ল্যাম্পে গ্যাস ভরে দিতেন।
আরও পড়ুন:- Purulia: চড়িদার মুখোশ শিল্পে লক্ষ্মীলাভ! বদলাচ্ছে পুরুলিয়ার অর্থনীতি
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দিশারীর গুরুত্ব কমতে থাকে। ১৯৬০-এর দশকে দারিয়াপুরে (Dariapur) নতুন লাইটহাউস স্থাপিত হওয়ার পর থেকে এই আলোকস্তম্ভ অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে লোহার সিঁড়ি ক্ষয়ে যেতে থাকে এবং একসময় সেটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। বাঁকিপুটের অদূরে হরিপুর (Haripur) ও পেটুয়াঘাটে (Petuaghat) একই ধরনের দুটি আলোকস্তম্ভ (Bankiput Lighthouse) ছিল, কিন্তু সেগুলি সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে বাঁকিপুটের দিশারী আজও টিকে আছে, কালের প্রভাব ও একাধিক ঘূর্ণিঝড়ের (Cyclone) পরেও এটি অটুট রয়েছে। বাঁকিপুটের এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সংরক্ষণের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা ও পর্যটকরা (Tourists)। তাঁদের মতে, দ্রুত সংস্কার না করা হলে এটিও ধ্বংস হয়ে যাবে।পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের মৎস্য ও প্রাণী বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ তথা কাঁথি কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের ভাইস চেয়ারম্যান তরুন কুমার জানা জানিয়েছেন, “বাঁকিপুট সৈকতে সরকারি উদ্যোগে সৌন্দর্যায়নের (Beautification) পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই নিদর্শনের সংরক্ষণের ব্যাপারে কিছু করা যায় কি না, তা নিয়ে আমরা আলোচনা করব।”
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:- https://www.facebook.com/share/164mWXbsyp/
স্থানীয় বাসিন্দা সূর্যনারায়ণ জানা বলেন, “এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি (Bankiput Lighthouse)দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন, নাহলে কালের নিয়মে এটি হারিয়ে যাবে।” বাঁকিপুট সৈকত আজকাল পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এখানে সমুদ্রের (Sea) পাশাপাশি প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন ভ্রমণপ্রিয় মানুষজন। দিশারী সংরক্ষণ করা গেলে এটি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, সরকার বা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দিশারীর ঐতিহ্য রক্ষা পাবে এবং এটি নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকবে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT