Travel: গরমের ছুটিতে পাহাড়ের এক অফবিট স্বর্গ!

ভ্রমণ

নিউজ পোল ব্যুরো: গরমের ছুটিতে যদি পাহাড়ের নির্জনতা উপভোগ করতে চান, তবে দার্জিলিংয়ের ভিড় এড়িয়ে অফবিট কোনো গন্তব্যই (Travel) হবে সবচেয়ে ভালো পছন্দ। পাহাড়ের অপূর্ব সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে—ট্রেনের টিকিট কাটা থেকে শুরু করে হোটেল বা হোমস্টে বুকিং পর্যন্ত। দার্জিলিং শহর ভিড়ে ঠাসা হলেও দার্জিলিং জেলারই এক শান্ত, মনোরম জায়গা হলো পালমাজুয়া (Palmajua)। এটি এমন এক স্থান, যেখানে প্রকৃতির বিশুদ্ধ পরিবেশের মধ্যে শান্তিতে কয়েকদিন কাটানো যাবে। এখানে পর্যটকের আনাগোনা কম, ফলে যারা প্রকৃতির কোলে নিরিবিলিতে সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য এটি আদর্শ গন্তব্য।

আরও পড়ুন:- Offbeat Destination: অফবিট ট্রিপের স্বাদ নিতে চলুন ‘খড়কাগাওঁ’

দার্জিলিং জেলার সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানের (Singalila National Park) একদম পাশেই অবস্থিত এই ছোট্ট গ্রামটি। এখানকার চারপাশ জুড়ে রয়েছে ঘন ওক (Oak), পাইন (Pine) ও বার্চ (Birch) গাছের জঙ্গল। যারা প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য পালমাজুয়া এক আদর্শ জায়গা। এখানকার জঙ্গলে প্রায় ১৭০ প্রজাতির পাখি (Birds) দেখতে পাওয়া যায়, তাই পক্ষীপ্রেমীদের (Bird Watchers) জন্য এটি এক স্বর্গরাজ্য। এছাড়াও, পালমাজুয়ার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ (Travel) হলো লুপ্তপ্রায় রেড পান্ডা (Red Panda)। যদিও এই লাজুক প্রাণীকে দেখা বেশ কঠিন, তবে ভাগ্য ভালো হলে গভীর জঙ্গলে এক ঝলক দেখা মিলতে পারে। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা (Kanchenjunga) দেখারও সুযোগ রয়েছে, তবে সেটি নির্ভর করে আবহাওয়ার উপর। যদি আকাশ পরিষ্কার থাকে ও মেঘ না থাকে, তবে পালমাজুয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

আরও পড়ুন:- Offbeat Travel: গরমে শান্তি খুঁজছেন? ঘুরে আসুন এই জায়গা থেকে

কীভাবে যাবেন?

পালমাজুয়া পৌঁছতে হলে আপনাকে প্রথমে নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) যেতে হবে। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে পালমাজুয়ার দূরত্ব প্রায় ১১৭ কিলোমিটার। সেখান থেকে মানেভঞ্জন (Manebhanjan) হয়ে পালমাজুয়া যেতে প্রায় ৫ ঘণ্টা সময় লাগবে। তবে মনে রাখতে হবে, মানেভঞ্জনের পর রাস্তা মোটেও ভালো নয়। বর্ষার সময় এই অঞ্চলে যাতায়াত করা বেশ কষ্টসাধ্য হতে পারে, তাই গ্রীষ্ম বা শরৎকালই পালমাজুয়া ভ্রমণের জন্য আদর্শ সময়। পালমাজুয়া মূলত ট্রেকারদের (Trekkers) জন্যও একটি আদর্শ স্থান, কারণ এখান থেকে বিভিন্ন সুন্দর জায়গায় ট্রেক করে পৌঁছানো যায়।

নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:- https://www.facebook.com/share/164mWXbsyp/

পালমাজুয়া থেকে ধোত্রে খুব কাছেই অবস্থিত, এটি সিঙ্গালিলা ন্যাশনাল পার্কের প্রবেশদ্বারগুলোর মধ্যে একটি। এছাড়া রয়েছে শ্রীখোলার নদীর ধারে বসে অবসর সময় কাটানো, মাছ ধরা কিংবা জঙ্গল ঘুরে দেখা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। ট্রেকিংপ্রেমীদের জন্য রিম্বিক একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান, এখান থেকে আরও গভীর পাহাড়ি পথে যাওয়া যায়। যারা অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী (Adventure Lovers), তারা জঙ্গলের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন পাহাড়ি পথে ট্রেক (Trekking) করতে পারেন। আবার যারা শুধু শান্ত পরিবেশে অবসর কাটাতে চান, তারা শ্রীখোলার জলে মাছ ধরতে পারেন বা স্থানীয় পাহাড়ি সংস্কৃতি উপভোগ করতে পারেন। থাকার ব্যবস্থা ও আনুমানিক খরচ পালমাজুয়ায় থাকার জন্য বেশ কিছু ভালো মানের হোমস্টে (Homestay) রয়েছে, যেখানে স্থানীয় মানুষদের আতিথেয়তা উপভোগ করা যাবে। এই হোমস্টেগুলোর খরচ মাথাপিছু সাধারণত ১৫০০ টাকার আশেপাশে হয়, যার মধ্যে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

কখন যাবেন?

যেহেতু মানেভঞ্জনের পর রাস্তা খুব একটা ভালো নয়, তাই বর্ষার সময় এই জায়গায় যাওয়া ঠিক হবে না। তবে গ্রীষ্মকাল (এপ্রিল-মে) এবং শরৎকাল (সেপ্টেম্বর-নভেম্বর) পালমাজুয়া ভ্রমণের জন্য আদর্শ সময়। বিশেষ করে শরৎকালে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য আরও স্পষ্ট দেখা যায়। যদি দার্জিলিংয়ের চেনা ভিড় থেকে দূরে গিয়ে প্রকৃতির কোলে নিরিবিলি কয়েকটা দিন কাটাতে চান, (Travel) তবে পালমাজুয়া আপনার জন্য একেবারে উপযুক্ত জায়গা।