সন্তান মানেই মায়ের সবচেয়ে কাছের এবং প্রিয় সম্পর্ক। কিন্তু যদি কোনও মা নিজেই নিজের সন্তানকে ফেলে রেখে প্রেমিকের সঙ্গে নতুন জীবনে মেতে ওঠেন? শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, বাস্তবে এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে ফ্রান্সের নেরস্যাক (France) শহরে। মাত্র ৯ বছরের এক শিশু সম্পূর্ণ একা দু’বছর ধরে একটি ঠান্ডা, নির্জন ফ্ল্যাটে বাস করছিল। জানা গিয়েছে, শিশুটির মা আলেক্সান্দ্রা তার ছেলেকে একা রেখে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে থাকতে শুরু করেন। ছেলের দেখাশোনার কোনো ব্যবস্থা না করেই তিনি নতুন সম্পর্কে মগ্ন হয়ে যান। ওই সময় শিশুটি প্রায় অনাহারে দিন কাটাত। সামান্য মিষ্টি (sweets), টিনজাত খাবার আর প্রতিবেশীদের কাছ থেকে পাওয়া কিছু সাহায্যের ওপর নির্ভর করেই বেঁচে ছিল সে। শিশুটির জীবনযাত্রা ছিল কঠোর বাস্তবতাময়। শীতকালে (winter season) কোনো হিটারের (heater) সাহায্য ছাড়াই সে একা রাত কাটাত। ঠান্ডা পানিতে (cold water) স্নান করত, একাধিক কম্বল জড়িয়ে শুতে হত তাকে।

অন্ধকারে একা থাকা, নিজেই নিজের খাবারের ব্যবস্থা করা—এসবই হয়ে উঠেছিল তার নিত্যদিনের অভ্যাস। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও শিশুটি প্রতিদিন স্কুলে (school) যেত। সে পড়াশোনায় এতটাই ভালো ছিল যে, শিক্ষকরাও কখনো বুঝতে পারেননি যে সে এত বড় সংকটের মধ্যে রয়েছে। তার এক শিক্ষক জানিয়েছেন, “সে তার বয়সের তুলনায় অত্যন্ত পরিণত , আত্মনির্ভরশীল এবং শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। আমরা কখনো ভাবতেও পারিনি যে সে এত কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।” দীর্ঘদিন ধরে কেউ টেরই পায়নি যে ওই ফ্ল্যাটে এক শিশু একা থাকছে। মা মাঝেমধ্যে কিছু খাবার (food) দিয়ে যেতেন, কিন্তু ছেলেকে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার কোনো চেষ্টাই করেননি। কিন্তু একদিন তার প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। প্রতিবেশীরা খেয়াল করেন, ফ্ল্যাটের দরজা প্রায় বন্ধ থাকে, বড়দের কাউকে কখনো আসতে দেখা যায় না, এবং শিশুটিকেই (France) সবকিছু করতে হয়। সন্দেহবশত তারা পুলিশের (police) কাছে খবর দেন। প্রতিবেশীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে এবং হতবাক হয়ে যায়। ফ্রিজ (fridge) ছিল একেবারে ফাঁকা, ডাস্টবিন (dustbin) ভর্তি ছিল কেকের মোড়ক ও ফাঁকা টিনজাত খাবারের বাক্সে। তদন্তে স্পষ্ট হয়, দীর্ঘ মাস ধরে এখানে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি আসেননি। ঘরে কোনো বড়দের পোশাক, জুতো বা টুথব্রাশ ছিল না। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি জানায়, সে গত দুই বছর ধরে একাই থাকছে, কারণ তার মা প্রায় আসতেনই না। এই সত্য উদঘাটন হওয়ার পর পুলিশ তৎক্ষণাৎ শিশুটির মা আলেক্সান্দ্রাকে খুঁজতে শুরু করে এবং তাকে তার প্রেমিকের বাড়ি থেকে আটক (arrested) করে।

আটকের পর প্রথমে আলেক্সান্দ্রা দাবি করেন, তার ছেলে সবসময় তার সঙ্গেই ছিল এবং সে মিথ্যা বলছে। কিন্তু পুলিশের তদন্তেই সত্য বেরিয়ে আসে। তদন্তের পর আদালত শিশুটির মাকে শিশু অবহেলার দায়ে ১৮ মাসের স্থগিত কারাদণ্ডদেয়। অর্থাৎ তিনি সরাসরি কারাগারে যাবেন না, তবে পুলিশের নজরদারিতে থাকবেন এবং নির্দিষ্ট শর্ত মানতে হবে।