নিউজ পোল ব্যুরো: প্রথম লেগে হারই কাল হয়ে দাঁড়াল ইতালির (Italy) কাছে। নাহলে দ্বিতীয় লেগের প্রথমার্ধে ৩-০ পিছিয়ে থেকেও যেভাবে বিরতির পর পাল্টা দিলেন মোইজে কিন-রসপাদোরিরা তারপরেও নেশনস লিগ (UEFA Nation’s League) সেমিফাইনালে পৌঁছাতে না পারা নিশ্চিতভাবে হতাশ করবে আজুরি বাহিনীকে। রবিবার নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে ডর্টমুন্ডে মুখোমুখি হয়েছিল জার্মানি এবং ইতালি। অন্যদিকে লিসবনে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগাল নেমেছিল ডেনমার্কের বিরুদ্ধে। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসল জার্মানি এবং পর্তুগাল। আগামী ৫ জুন (ভারতীয় সময়) মিউনিখের আলিয়াঞ্জ এরিয়ায় মেগা সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে এই দুই দল।
আরও পড়ুন: CSK vs MI: কাজে এল না ভিগ্নেশের লড়াই, ৪ উইকেটে মুম্বই বধ চেন্নাইয়ের
রবিবার রাতে নেশনস লিগের (UEFA Nation’s League) কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে ইতালির বিরুদ্ধে নেমেছিল জার্মানরা। শুরু থেকেই যে লিড আরও বাড়িয়ে নেওয়ার দিকে এগিয়ে যায় তারা। ইতালির মাঠে দলকে সমতায় ফেরানো টিম ক্লেইনডিয়েনস্ট বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হলে ৩০ মিনিটে জশুয়া কিমিখ পেনাল্টি থেকে গোল করে জার্মানিকে এগিয়ে দেন। ঠিক ছ’মিনিট পরেই জামাল মুসিয়ালার গোলে লিড আরও বাড়ে চারবারের বিশ্বজয়ীদের।এরপর প্রথমার্ধের একদম শেষ লগ্নে ৪৫ মিনিটে জার্মানির সেমিফাইনাল টিকিট কার্যত নিশ্চিত করে ফেলেন বরুসিয়া মনচেনগ্লাডবাখ ফরোয়ার্ড টিম ক্লেইনডিয়েনস্ট। দ্বিতীয় লেগে ৩-০ গোলে এবং দুই লিগ মিলিয়ে ৫-১ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জার্মানি।

আপাতদৃষ্টিতে খেলা তখনই শেষ হয়ে যায়। কিন্তু খেলার মাঠে শেষের আগে কোনকিছুই সমাপ্ত হয় না এই কথা প্রমাণিত করে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ঘটায় ইতালি। দ্বিতীয়ার্ধে ৩ গোল শোধ করে তারা। ৪৯ এবং ৬৯ মিনিটে জোড়া গোল করেন তরুণ ফিওরেন্তিনা ফরোয়ার্ড মোইস কিন। ইনজুরি টাইমে গিয়াকোমো রাসপাদোরি পেনাল্টি থেকে আরও একটি গোল করে সমতা ফেরান। কিন্তু টানটান উত্তেজনার ম্যাচে রুপকথা লিখতে পারল না আজুরিরা। দুই লেগ (UEFA Nation’s League) মিলিয়ে এক গোলের ব্যবধানে (৫-৪) হার মানলেন তারা।

অন্যদিকে রবিবাসরীয় রাত (UEFA Nation’s League) মায়াবী হয়ে থাকল লিসবনে। ঘরের মাঠে ডেনিশদের ৫ গোল দিল পর্তুগাল। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৩ গোলে জিতে সেমিফাইনালে পৌঁছালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোরা। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ০-১ গোলে হেরেছিল পর্তুগিজরা। রবিবার তাই জিততেই হতো তাদের। খেলার বয়স তখন মাত্র তিন মিনিট। পেনাল্টির সুযোগ পায় পর্তুগাল। কিন্তু রোনাল্ডোর হালকা চালের শট প্রতিহত করেন ডেনমার্ক গোলরক্ষক ক্যাসপার স্মাইকেল। যদিও প্রথমার্ধেই এগিয়ে যায় পর্তুগাল। ৩৮ মিনিটে কর্ণার পায় তারা। হেডে গোল করতে লাফিয়ে ওঠেন সিআর সেভেন। কিন্তু তিনি তা মিস করলে তার পাশে থাকা ড্যানিশ ডিফেন্ডার জোয়াকিম অ্যান্ডারসেন চাপের মুখে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ৫৬ মিনিটে এরিকসনের ক্রস থেকে হেডে গোল করে ফের ডেনমার্ককে চালকের আসনে ফিরিয়ে আনেন ফ্র্যাঙ্কফুট ডিফেন্ডার ক্রিস্টেনসেন। কিন্তু ৭২ মিনিটে পেনাল্টি মিসের আক্ষেপ পুষিয়ে দেন রোনাল্ডো। ব্রুনো ফার্নান্দেজের শট গোলপোস্টে বাধা পেয়ে ডেনমার্ক গোলরক্ষকের হাতে লেগে ফিরে এলে নিঁখুত শটে গোল করতে ভুল করেননি তিনি। দেশের হয়ে ১৩৬ খানা গোল করে ফেললেন তিনি। পর্তুগাল এগিয়ে যায় ২-১ গোলে। এরপর আবারও রোলার কোস্টার রাইডের মত ৭৬ মিনিটে ম্যান ইউ মিডফিল্ডার ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনের গোলে এগিয়ে যায় ডেনমার্ক।

দুই লেগ (UEFA Nation’s League) মিলিয়ে ৩-২ গোলে এগিয়ে সেমির দিকে এগোতে থাকে ডেনমার্ক। ঠিক এই সময়ই মোক্ষম চাল দেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। ডিফেন্ডার দিয়োগো ডালোতকে তুলে বছর পঁচিশের ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাওকে মাঠে নামান তিনি। মাঠে নামার পাঁচ মিনিটের মধ্যে খেলার রং বদলে দেন স্পোর্টিং সিপি উইঙ্গার। ৮৬ মিনিটে এবং অতিরিক্ত সময়ে জোড়া গোল করে পর্তুগালকে খেলায় ফিরিয়ে আনেন তিনি। এই সময় রোনাল্ডোকে তুলে গনকালো রামোসকে নামায় পর্তুগাল। শেষের দিকের তাঁর গোলেই ৫-২ (এগ্রিগেট ৫-৩) -এর ব্যবধানে ডেনমার্ককে হারিয়ে সেমিফাইনাল বার্থ নিশ্চিত করে পর্তুগাল।
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/
নেশনস লিগ সেমিফাইনাল:
৫ জুন, রাত ১২:১৫ মিনিট: জার্মানি বনাম পর্তুগাল
৬ জুন, রাত ১২:১৫ মিনিট: স্পেন বনাম ফ্রান্স