নিউজ পোল ব্যুরো: মঙ্গলবার ভারত বনাম বাংলাদেশ। নাহ্ ক্রিকেটে নয়। ফুটবলে (IND vs BAN Football)। ক্রিকেটের ২২ গজে এই যুদ্ধ হলে এতক্ষণ উত্তেজনায় ফুটত দুই দেশ। বিশেষ করে দুই বাংলা। কিন্তু ফুটবলের যুদ্ধে সেভাবে কোন উত্তাপই নেই এই লড়াই ঘিরে। মালদ্বীপের (India vs Maldives) বিরুদ্ধেই মাঠ ভরেনি শিলংয়ে (Shillong Jawaharlal Nehru Stadium)। এদিনও ভরবে বলে হয় না। যদিও জানা গিয়েছে সব টিকিট নাকি শেষ। চারদিকে পাহাড় ঘেরা ছোট্ট একটা শহরের কোন মাথাব্যথা নেই এই ম্যাচ ঘিরে। তা সে বিপক্ষ দলে যতই একজন অনূর্ধ্ব-২১ ইংল্যান্ড (Under-21 England Footballer) দলে খেলা তারকা থাকুক না কেন। তার উপর চলছে আইপিএল (IPL 2025)। কিন্তু মাঠের বাইরে যতই এই লড়াই নিরুত্তাপ হোক না কেন, ভারতীয় ফুটবলের (Indian Football Tea দিক দিয়ে এই ম্যাচের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ তুলনামূলকভাবে সহজ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে (FIFA World Cup Qualifiers) সুযোগ নষ্টের পর সুনীল ছেত্রীকে (Sunil Chhetri) ফিরিয়ে এনেও আগামী বছর এএফসি এশিয়ান কাপে (AFC Asian Cup 2027) পৌঁছাতে না পারলে জাতীয় দলের দিকে প্রশ্নের ঝড় ধেয়ে আসবে।
আরও পড়ুন: DC vs LSG: আশুতোষের লড়াইয়ে হারা ম্যাচ জিতল দিল্লি
সূচী ঘোষণার সময় থেকেই আপাত মাল-মশলাহীন এই ম্যাচকে (IND vs BAN Football) ঘিরে আলোচনা শুরু হয় একটি নামকে ঘিরেই — হামজা চৌধুরী (Hamza Chowdhury)। ২৭ বছর বয়সী এই রাইট ব্যাক আসলে উঠেছেন লেস্টার সিটি অ্যাকাডেমি থেকে। প্রাক্তন প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নদের হয়ে ৯০টিরও বেশি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। তবে বর্তমানে লোনে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলেন তিনি। তাঁর বাবা গ্রেনেডার এবং মা বাংলাদেশি। সেই সূত্রে গত বছর বাংলাদেশর হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

ফুটবল পরিকাঠামোর দিক দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ (IND vs BAN Football) দুই দেশের অবস্থা প্রায় একইরকম। যদিও ফিফা ক্রমতালিকায় বাংলাদেশের (১৮৫) থেকে এগিয়ে রয়েছে ভারত (১২৬)। ঘরোয়া ফুটবল থেকে সেভাবে ফুটবলার উঠে আসার না কারণে অতীতে বারংবারই বিদেশি লিগে খেলা ভারতীয় বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে খেলানোর দাবি উঠেছে। কিন্তু শেষমেশ তা হয়নি কখনই। ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবে অতীতে ভারতীয় দলে এইধরণের ফুটবলারদের জাতীয় দলে খেলানোর বিষয়ে নিয়মগুলি অধ্যয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করার কথা বললেও তা হয়নি। এখন পড়শী দেশ হামজা চৌধুরীকে খেলানোর পর এইআইএফএফও তা দেখে ভবিষ্যতে এইধরণের সিদ্ধান্ত নেয় কিনা তা সময় বলবে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও গল্পটা একইরকম। অনুন্নত ফুটবল পরিকাঠামোর সমস্যায় ভুগছে সেই দেশও। এখন যেহেতু একজন বিদেশি খেলোয়াড় এসেছেন তাই ক্যামেরার ঝলকানি এবং মানুষজনের আগ্রহ ফিরেছে ওপার বাংলার ফুটবলে। সপ্তাহের শুরুতে ঢাকা বিমানবন্দরে হামজাকে ঘিরে জনতার উত্তেজনা দেখে তাঁকে লিওনেল মেসির সাথে তুলনা করেছেন একসময় মহামেডান স্পোর্টিংয়ে খেলা বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। সোমবার প্রাক ম্যাচ (IND vs BAN Football) সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, “সুনীল ছেত্রীর সাথে হামজার তুলনা চলে না। ভারতীয় ফুটবলে সুনীলের অবদান অবশ্যই অনস্বীকার্য, কিন্তু সত্যি বলতে কি হামজা একজন প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড়।”

ভারতীয় কোচ মানোলো মার্কেজকেও হামজাকে ঘিরে একঝাঁক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “হামজা অবশ্যই একজন ভালো খেলোয়াড়। ও প্রিমিয়ার লিগেও খেলেছে। এটা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, এশিয়ান ফুটবলের জন্যও ভালো যে এই ধরণের খেলোয়াড়রা জাতীয় দলের হয়ে খেলছে।“ তবে ভারতীয় দলেও একজন সুনীল ছেত্রী রয়েছে। আর ন’মাস পর অবসর ভেঙে জাতীয় দলে ফিরেই গোল করে বুঝিয়ে দিয়েছেন ভারতীয় ফুটবলকে এখনও অনেক কিছু দেওয়া বাকি রয়েছে তাঁর। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে যেমনটা জানালেন সন্দেশ ঝিংঘানও। তিনি বলেন, “ওর থেকে সবসময় আমরা গোলের আশা করি। আর ও গোল করতে ভালওবাসে। দেশের হয়ে ৯৫টি গোল করে ফেলা ফুটবলার সবসময়ই বিপক্ষ দলের ত্রাস।“ আর সুনীল? কামব্যাকের পর থেকে মিডিয়ার মুখোমুখি হননি এখনও। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জিতলে হয়তো আসবেন ম্যাচ পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে। কিন্তু দলের অন্দরে তিনি সেই একইরকম রয়ে গিয়েছেন। সতীর্থদের কাছে তিনি কড়া সিনিয়র নন বরং সবসময় পাশে থাকা একজন অভিভাবক। একজন বন্ধু।

নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে (IND vs BAN Football) ব্র্যান্ডন ফার্নান্দেজকে পাবে না ভারত। মালদ্বীপ ম্যাচে চোট পেয়ে ছিটকে গিয়েছেন তিনি। বদলি হিসেবে দলে এসেছেন উদান্ত সিং। মঙ্গলবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে দেখা যেতে পারে তাঁকে। গত কয়েকদিন রুদ্ধদ্বার অনুশীলন করেছে মার্কেজের দল। ব্লু টাইগার্স থেকে এদেশের ফুটবল মহল আশাবাদী বিপক্ষ দলে যতই ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলা প্লেয়ার থাকুক না কেন ভারতীয় দলেও একজন সুনীল আছেন। অধিনায়ক সবটা সামলে নেবেন। সামলে নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন তিনি। সুনীল-হামজা মহারণে শেষ হাসি কে হাসে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে সন্ধ্যা ৭:০০টা পর্যন্ত।