নিউজ পোল ব্যুরো: বাড়ির অমতে পালিয়ে বিয়ে করার জন্য জীবিত মেয়েরই শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করেছিলেন বাপের বাড়ির লোকেরা। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার সোনাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ঘটনাটি ঘটেছিল। এবার মালদায় (Malda) একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। এক ব্যক্তি তাঁর জীবিত স্ত্রীর মুখাগ্নি ও রীতিনীতি পালন করে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করেছেন। এই কাজের সময়ে পুরো গ্রাম উপস্থিত ছিল এবং শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেছিল। কিন্তু জীবিত স্ত্রীর মুখাগ্নি ও শ্রাদ্ধানুষ্ঠান কিভাবে সম্ভব তা জানতে হলে পড়তে হবে পুরো খবর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের বারুই গ্রাম পঞ্চায়েতের পরশতলা গ্রামের বাসিন্দা অচিন্ত্য রায় নামের এক ব্যক্তি এই কাজ করেছেন। হরিনাম জপ করে স্ত্রীর একটি নকল প্রতিমা তৈরি করে কাঁধে বহন করা হয়েছিল। তারপরেই নিয়ম এবং রীতি অনুসারে স্ত্রীর মুখাগ্নি সহ পারলৌকিক সমস্ত কাজ করা হয়েছিল এবং দেহ দাহ করা হয়েছিল। শ্মশানে উপস্থিত ছিলেন অচিন্ত্যর বন্ধুরাও। নকল দেহ দাহ করার পর নিয়ম অনুসারে মাথা ন্যাড়া করা হয়েছিল এবং শ্রাদ্ধ করা হয়েছিল। গ্রামবাসীদের পেটপুর খাওয়ানো হয়েছিল। কিন্তু কেন এত কাণ্ড? জানা গিয়েছে, অচিন্ত্য রায় তার স্ত্রী সঙ্গে ১৯ বছর ধরে একসঙ্গে বসবাস করেছিলেন তার পরেও তাঁর স্ত্রী প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তিনি অজুহাত দিয়েছিলেন যে বিয়ের এত বছর পরেও তার কোনও সন্তান হয়নি। তার পরেই অচিন্ত ভেবে নেন যে তাঁর স্ত্রীর পরলোকে চলে গিয়েছেন। অচিন্ত্য পেশায় রাজ মিস্ত্রি। নিঃসন্তান দম্পতি। অচিন্ত্য উনিশ বছর আগে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু উনিশ বছর একসাথে কাটানোর পরেও স্ত্রী তার প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। এখনেই শেষ নয় স্ত্রী তার প্রেমিকের সঙ্গে রিল তৈরি করে, ফেসবুকে ট্যাগ করে স্বামীকে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। রিলগুলি হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ারও করেছিলেন।

অচিন্ত্য রায় অভিযোগ করেছেন, স্ত্রীর এই কাণ্ডে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অচিন্ত্য দাবি করেছেন যে তার স্ত্রীর কর্মকাণ্ডে পরিবারের সম্মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই, তিনি তার স্ত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তার আত্মার শান্তির জন্য শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান করেন। মঙ্গলবার মালদায় (Malda) অচিন্ত্য এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা হিন্দু রীতি অনুসারে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। পুরোহিত মন্ত্র পাঠ করেন, গ্রামবাসীদের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজনদের জন্য খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে ভবিষ্যতে গ্রামে যাতে এমন কোনও ঘটনা না ঘটে সেজন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
আরও পড়ুনঃ Sonu Sood: গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত অভিনেতা সোনু সুদের স্ত্রী

অচিন্ত্য বলেন, “পরিবারে কোনও অশান্তি ছিল না। কিন্তু সন্তান না হওয়ার একটা দুঃখ ছিল। রাজমিস্ত্রি হিসেবে আমি যা আয় করতাম তার সবই আমার স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে জমা করতাম। আমার স্ত্রী গভীর রাত পর্যন্ত ফোনে কথা বলত, তখনই আমি বুঝতে পারলাম। আমি বেশ কয়েকবার নিষেধ করেছিলাম। আমি আমার শ্বশুরবাড়ির লোকদের জানিয়েছিলাম। সেদিন আমি কাজে বেরিয়েছিলাম। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে দেখি আমার স্ত্রী বাড়িতে নেই। সে আমার সমস্ত নতুন পোশাক, বিয়ের গয়না, ব্যাংকের চল্লিশ হাজার টাকা, আমার জীবনের সমস্ত আয় সহ, নিখোঁজ ব্যক্তির ডায়েরি নিয়ে পালিয়ে গেছে। আমি থানায় একটি নিখোঁজ ব্যক্তির ডায়েরি করি। তারপর সে তার প্রেমিকের সাথে ফেসবুকে একটি মুক্তিপণ লিখে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে আমাকে জানানোর চেষ্টা করে। এখন আমি সম্পূর্ণ নিঃস্ব। আমার আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।”
নিউজ পোল বাংলার ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:https://www.facebook.com/share/p/1BtysYaYuL/