নিউজ পোল ব্যুরো: ডুয়ার্সের (Dooars) বিভিন্ন চা বাগান (Tea Garden) ও সংলগ্ন গ্রামগুলিতে চিতাবাঘের (Leopard) দেখা ক্রমশ বাড়ছে। সম্প্রতি নাগরাকাটা ব্লকের (Nagrakata Block) কাঠালধুরা চা বাগানে টানা দুইদিনে দুটি চিতাবাঘ ধরা পড়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
সূত্রের খবর,কয়েকদিন ধরে চিতাবাঘটি চা বাগানের আশপাশে ঘোরাফেরা করছিল। সন্ধ্যা নামলেই সেটি গ্রামে ঢুকে হাঁস-মুরগি, ছাগল ও অন্যান্য গবাদি পশু ধরে নিয়ে যাচ্ছিল। এমনকি, রাতে মানুষের চলাচলেও বাধা সৃষ্টি হচ্ছিল। ফলে, গ্রামবাসীরা অন্ধকার নামার পর থেকেই ঘরে নিজেকে আটকে রাখতে বাধ্য হচ্ছিলেন। এলাকায় চিতাবাঘের উৎপাতের খবর পেয়ে বন দফতর (Forest Department) দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। খুনিয়া রেঞ্জ (Khunia Range) থেকে বনকর্মীরা এসে চা বাগানের ৬ নম্বর সেকশনে একটি খাঁচা পেতে রাখেন। চিতাবাঘটিকে আকৃষ্ট করতে ছাগলকে টোপ হিসেবে রাখা হয়।

শনিবার সকালে চিতাবাঘটি ছাগল ধরতে এসে খাঁচার ভেতরে ঢুকে পড়ে। খাঁচা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর চিতাবাঘটিকে আটকে পড়তে দেখে গ্রামবাসীরা ছুটে আসেন। চিতাবাঘের গর্জনে চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বনদফতরকে খবর দেওয়া হলে, তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিতাবাঘটিকে উদ্ধার করে।
বনদপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ধরা পড়া চিতাবাঘটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হবে। এরপর তাকে নিরাপদ পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হবে। সম্ভাব্য স্থান হিসেবে গরুমারা জাতীয় উদ্যান (Gorumara National Park) বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে চিতাবাঘটির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে।
আরও পড়ুন: http://Pool Car: স্কুলগাড়ির নিরাপত্তা বাড়াতে, আয়োজন বিশেষ শিবির
এই চা বাগান থেকে চিতাবাঘ উদ্ধারের ঘটনা নতুন নয়। দুই দিন আগে একইভাবে আরেকটি চিতাবাঘ ধরা পড়েছিল। এক সপ্তাহের মধ্যে এই চা বাগান থেকে দুটি চিতাবাঘ উদ্ধারের ঘটনা বনদপ্তরকেও চিন্তায় ফেলেছে। ডুয়ার্সের চা বাগান সংলগ্ন এলাকায় চিতাবাঘের উপস্থিতি বেড়ে চলেছে। বনদপ্তর বিষয়টি নিয়ে পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে এবং চা বাগানগুলিতে চিতাবাঘ প্রবেশ রোধ করতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়ার কারণে চিতাবাঘ খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসছে।
চিতাবাঘের এই ক্রমাগত উপস্থিতি গ্রামবাসীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বনদপ্তরের কাছে আরও তৎপর হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা কমে আসে এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘর্ষ এড়ানো যায়।
নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক: https://www.facebook.com/share/p/1AFPuMiUPN/