নিউজ পোল ব্যুরো: মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে সল্ট লেকের সেক্টর (Salt Lake) ফাইভে অবস্থিত একটি অবৈধ আন্তর্জাতিক কল সেন্টারে হদিশ পেয়েছিল বিধাননগর থানার পুলিশ। সেই ঘটনার পর বিধাননগর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ফের সল্টলেক সেক্টর ফাইভে অবৈধ আন্তর্জাতিক কল সেন্টারের (fake call center) পর্দা ফাঁস করেছে। সেই সঙ্গেই উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ টাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কল সেন্টার মালিকের বাড়িতে অভিযান চলাকালীন বাড়ির গোপন স্থান থেকে পুনরায় উদ্ধার করা হয়েছে ৩ কোটি ৩ লক্ষ টাকা এবং আনুমানিক ৪০ লক্ষ টাকার সোনার গয়না। এই কেসের তদন্তে নেমে আপাতত উদ্ধার হয়েছে ৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা। এমনটাই তথ্য দিয়েছে পুলিশ। সেই সঙ্গেই ৪টি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, দুটো নোটবুক, একটি ক্যাশ কাউন্টিং মেশিন, ছয়টি ডেস্কটপ, এছাড়াও চারটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রতারণার ঘটনায় পুলিশ ৩জনকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে মার্কিন-সহ বিদেশি নাগরিকদের টেক সাপোর্ট দেওয়ার নামে প্রতারণা চলত। ঘটনা নিয়ে বিধান নগর কমিশনারেট এর ডিসি হেড কোয়াটার কুলদীপ এস এস বলেছেন, “ধৃতদের ল্যাপটপ এবং ডেস্কটপে দেখার পর বোঝা যায় সেখানে থাকা একটা ডায়লার ব্যবহার করে বিদেশে কল করত অভিযুক্তরা। এরপরে ওদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ জানা যায় মার্কিন নাগরিক-সহ অন্যান্য দেশের বাসিন্দাদের ডেটা তাঁদের কাছে রয়েছে। সেখান থেকে নাম্বার নিয়ে তারা সেই সমস্ত বিদেশি নাগরিকদের ফোন করে টেক সাপোর্ট দেওয়ার নাম করে প্রতারণা করত। এই টাকা গিফট কার্ড ও বিটকয়েনের মাধ্যমে নেওয়া হতো। এরপরে সেই টাকা অন্য দেশে পাঠিয়ে নগদ করা হত।”

এর আগে মঙ্গলবার পুলিশের দল কল সেন্টারের (fake call center) অফিসে হানা দিয়ে প্রচুর পরিমাণ নগদ টাকা, মোবাইল, ল্যাপটপ সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধার করে। সেই ঘটনায় কল সেন্টারের মালিক অবিনাশ জয়সোয়াল ওরফে পীযুষকে গ্রেফতার করেছে। সূত্রে জানা গিয়েছে, সল্টলেক সেক্টর ফাইভের কল সেন্টারটি দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনি (illegal) ভাবে আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের লক্ষ্য করে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। অভিযানের সময় অফিস থেকে নগদ ৬০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়। এরপর তদন্ত এগোতে পুলিশ অবিনাশ জয়সোয়ালের ব্যক্তিগত বাসভবনেও তল্লাশি চালায়, যেখানে আরও ৫ লক্ষ টাকা পাওয়া যায়। অর্থাৎ তখন পুলিশ মোট ৬৫ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করে ।

শুধু নগদ টাকা নয়, অভিযানের সময় একাধিক মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, হার্ডড্রাইভ (hard drive), ইন্টারনেট রাউটার সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়। এই সমস্ত ডিভাইস পর্যালোচনা করে প্রতারণার বিস্তারিত নথিপত্র সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে তদন্তকারী দল। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই কল সেন্টারের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
নিউজ পোল বাংলার ফেসবুক পেজের লিঙ্ক: https://www.facebook.com/share/p/1E927KudU3/