Medicine Alert: জাল ওষুধের বেড়াজাল থেকে বাঁচার সহজ উপায়

অপরাধ রাজ্য স্বাস্থ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: বর্তমান সময়ে বাজারে নকল ওষুধ (Medicine Alert) ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। অসচেতনতার কারণে অনেকেই আসল ওষুধ (Genuine Medicine) না চিনতে পারায় ভুয়ো ওষুধ (Spurious Drugs) কিনে ফেলেন, যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে, যখন কোনও গুরুতর অসুখের চিকিৎসার জন্য নির্ভরযোগ্য ওষুধ প্রয়োজন, তখন নকল ওষুধ গ্রহণ করলে তা প্রাণঘাতীও হতে পারে।

ওষুধ কেনার সময় কীভাবে আসল ও নকলের পার্থক্য করা যায়, সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন চিকিৎসকরা। চলুন দেখে নেওয়া যাক, কীভাবে নিশ্চিত হবেন যে আপনি আসল ওষুধই কিনছেন।

১) ওষুধের আকার ও প্যাকেজিং:
ওষুধ কেনার সময় প্রথমেই প্যাকেট এবং ওষুধের গঠন ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। আসল ওষুধের প্রতিটি ইউনিট (Tablet/Capsule) দেখতে একই রকম হবেএকই মাপ, একই রঙ, একই আকৃতি। কিন্তু নকল ওষুধের ক্ষেত্রে এর অসঙ্গতি দেখা যেতে পারে।

বিশেষ লক্ষণ:

  • যদি এক পাতার (Strip) প্রতিটি ওষুধের মাপ ও আকৃতিতে পার্থক্য থাকে, তবে সেটি ভুয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • নকল ওষুধের প্যাকেটের মধ্যে ছোট ছোট হাওয়ার বুদবুদ (Air Bubble) দেখা যেতে পারে।
  • আসল ওষুধ সাধারণত নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষিত হয়, কিন্তু ভুয়া ওষুধে সংরক্ষণের মান ঠিকঠাক না থাকায় প্যাকেটের গায়ে অস্বাভাবিক গঠন দেখা যায়।
  • আরও পড়ুন: Sugar: শরীরের শত্রু চিনি! আজ থেকেই নিয়ন্ত্রণ করুন

২) ক্যাপসুলের রঙ ও আকারে গড়মিল :
ক্যাপসুল জাতীয় ওষুধের ক্ষেত্রে, আসল ওষুধের সবগুলো ক্যাপসুল দেখতে অভিন্ন হবে। কিন্তু যদি দেখেন যে একেকটি ক্যাপসুলের রঙে পরিবর্তন রয়েছে, বা সেগুলোর সাইজে সামান্য হেরফের হচ্ছে, তবে সেটি নকল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

৩) কিউআর কোড ও ওষুধের গায়ে থাকা তথ্য:
বর্তমানে বেশিরভাগ নামী ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা তাদের প্রতিটি ওষুধের প্যাকেটে একটি কিউআর কোড (QR Code) যুক্ত করে থাকে। এই কিউআর কোড স্ক্যান করলেই ওষুধ সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য পাওয়া যায়, যেমন:ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানির নাম, লাইসেন্স নম্বর, তৈরির তারিখ এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ।

৪) ওষুধ কাজ না করলে সতর্ক হোন :
যদি কোনো ওষুধ সেবনের পরেও লক্ষণ অনুযায়ী উন্নতি না হয়, তবে তা নিয়ে সন্দেহ করা উচিত। আসল ওষুধ নির্দিষ্ট রাসায়নিক উপাদান (Active Ingredients) ও সঠিক মাত্রায় প্রস্তুত করা হয়, যা রোগ নিরাময়ে কার্যকর। কিন্তু ভুয়া ওষুধে সেই সঠিক উপাদান নাও থাকতে পারে।


নকল ওষুধ সাধারণত কম দামে বিক্রি করা হয়, যাতে মানুষ আকৃষ্ট হয়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, উচ্চমানের ওষুধ তৈরির নির্দিষ্ট খরচ রয়েছে। যদি কোনো ওষুধ বাজারমূল্যের চেয়ে অস্বাভাবিক কম দামে বিক্রি করা হয়, তাহলে সেটি নকল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সঠিক ওষুধ সেবন নিশ্চিত করতে, শুধুমাত্র বিশ্বাসযোগ্য ফার্মেসি থেকে ওষুধ কেনা উচিত এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নকল (Medicine Alert) ওষুধের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

নিউজ পোল বাংলার ফেসবুক পেজের লিঙ্ক: https://www.facebook.com/share/p/1LUw6brzp7/