নিউজ পোল ব্যুরো: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026) কি নয়া রাজনৈতিক সমীকরণ দেখতে চলছে বঙ্গবাসী? বিধানসভা নির্বাচনের এক বছর আগে সোমবার খুশির ঈদে যে ছবিটা ধরা পড়ল তাতে এই প্রশ্ন উঠে আসা অন্যায্য নয়। এদিন রিষড়া ওয়েলিংটন জুটমিলের মাঠে ঈদের নামাজ আদায়ের অনুষ্ঠানে (Eid Celebration) একইসঙ্গে দেখা গেল তৃণমূল (TMC), সিপিএম (CPIM) এবং কংগ্রেসকে (Congress)।
আরও পড়ুনঃ Dilip Ghosh : “দেব-দেবীদের হাতেও অস্ত্র থাকে!” রামনবমীর অস্ত্র মিছিল নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি দিলীপের
ঈদের দিনে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে তিন দলের নেতাকর্মীদের গলাতেই শোনা গেল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুর। পাশাপাশি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে তিন দল যে প্রয়োজনে একজোটও হতে পারে, সোমবারের দৃশ্য উস্কে দিচ্ছে সেই জল্পনাই। এদিন রিষড়া ওয়েলিংটন জুটমিলের মাঠে ঈদের নামাজ আদায়ের অনুষ্ঠানে (Eid Celebration) উপস্থিত হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee), কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং সিপিআইএমের রাজ্য কমিটির সদস্য তীর্থঙ্কর রায়। তিনজনই নাম না করে কটাক্ষ করেন রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপিকে।

তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “আজ খুশির ঈদ সবাই ভাল থাকুক। আমাদের পশ্চিমবঙ্গে যে সুর বাজে সেটা হল সম্প্রীতির। যে ধর্মের মানুষ হোক না কেন উৎসব সবাই মিলে পালন করুক। দুর্গাপুজো, ঈদ, বড়দিন সবই। মিষ্টতার সুর যেন বজায় থাকে। সম্প্রীতি যেন বজায় থাকে।” এরপরই কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যে অপশক্তি এই সুরের বাইরে গান গায়, যে অপশক্তি সম্প্রীতিকে নষ্ট করে আজকে ঈদের দিনে সেই প্রার্থনা করি সেই অপশক্তিকে যেন বিনষ্ট করে। গত ১৪ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাংলা চলছে। সেই বাংলা সম্প্রীতির বাংলা। কালকে আমি একটা কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেছি যার পিছনে একজন মুসলিম প্রধানের হাত আছে।এটাই পশ্চিমবঙ্গ।”
নিউজ পোল ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/
কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের মুখে আবার ঈদ এবং রামনবমীর কথা একইসঙ্গে শোনা যায়। বলেন, “আজ খুশির ঈদ আর কয়েকদিন পরেই রামনবমী। এই দুই উৎসবেই যাতে সম্প্রীতি বজায় থাকে সেটার জন্য প্রশাসন যাতে সজাগ থাকে। আমি প্রার্থনা করব যাতে সবার ঘরে আলো থাকে।এর মধ্যেও কিছু কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। প্রশাসন যদি সঠিকভাবে সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তাহলে ভাল হয়। ভ্রাতৃত্ব বোধের উপরে আমাদের আস্থা আছে। এর মধ্যেও রাজনৈতিক দল ধর্মীয় মেরুকরণ করার চেষ্টা করছে। আমি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঈদ মুবারক জানালাম। এই বাংলা রামকৃষ্ণের মাটি, তাঁর বাণী, যত মত তত পথ -এর মত সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে থাকুক।”

অন্যদিকে সিপিআইএমের রাজ্য কমিটির সদস্য তীর্থঙ্কর রায় জুট মিলে শ্রমিক সংগঠন করেন। জানান, রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে তিনি এদিনের ঈদ উদযাপনে (Eid Celebration) উপস্থিত হননি। তাঁর কথায়, “প্রতি বছরই আসি শুভেচ্ছা বিনিময় করতে। আজকে শুধু নয়। গোটা বছরই যোগাযোগ থাকে। শান্তি সম্প্রীতি বজায় থাকুক। প্রত্যেকেই তার ধর্ম পালন করুক। উৎসব পালন করুক। এটাই ভারতবর্ষের ঐতিহ্য। কেউ কেউ সেই ঐতিহ্যকে ভাঙার চেষ্টা করছে। প্রত্যেকেরই তার নিজের নিজের ধর্ম পালন করার অধিকার আছে।”