Bidhannagar : চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ স্বাস্থ্যকর্মীদের

অপরাধ জেলা রাজ্য স্বাস্থ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: বিধাননগর (Bidhannagar) পুরসভার একাধিক মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি (sexual harassment) এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগ এনেছেন। গণস্বাক্ষর (mass signature) করে তাঁরা এই অভিযোগপত্র পুরসভার মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী, পুর স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং একাধিক পুরপ্রতিনিধির কাছে জমা দিয়েছেন। অভিযোগের তীব্রতা বাড়ায়, বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে। যদিও অভিযুক্ত চিকিৎসকের দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে এবং এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

আরও পড়ুনঃ Holi: হোলির আগে বড়সড় পুলিশি অভিযান! গ্রেফতার প্রায় ৬০০

অভিযুক্ত চিকিৎসক বয়সে প্রবীণ এবং শহরকেন্দ্রিক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের (Urban Primary Health Center – UPHC) মেডিক্যাল অফিসার (medical officer) হিসেবে কর্মরত। অভিযোগকারী মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, ওই চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে অশ্লীল মন্তব্য (obscene remarks) করেন এবং যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ (sexually suggestive) ভাষা ব্যবহার করেন। এক স্বাস্থ্যকর্মীর অভিযোগ, চিকিৎসক তাকে বহিরাগত কিছু ব্যক্তিকে কলকাতা ঘুরিয়ে দেখানোর নির্দেশ দেন, যা তাঁর কাজের মধ্যে পড়ে না। এমনকি, তাঁকে এক নৈশভোজ (dinner invitation) অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান এবং জোর করে যেতে বলারও চেষ্টা করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, চিকিৎসক প্রায়ই মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং তাঁদের অসম্মানজনক ভাষায় কথা বলেন।

এই ঘটনার পর, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি প্রসেনজিৎ নাগ বিধাননগরের (Bidhannagar) নগরপালকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ করেছেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিশাখা গাইডলাইন (Vishakha Guidelines) অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন। যদিও এখনও পুলিশে সরাসরি অভিযোগ দায়ের হয়নি, তবু অভিযোগকারীরা পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানোর কথা ভাবছেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত চিকিৎসকের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি জানান, তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র (conspiracy) করা হচ্ছে। তিনি কাউকে নৈশভোজে যেতে বলেননি। কিছু প্রশিক্ষণার্থী (trainees) ছ’মাস আগে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসেছিলেন, তাঁদের হাসপাতাল ঘুরিয়ে দেখানোর কথা বলা হয়েছিল। এই বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

বিধাননগর( Bidhannagar) পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের মেয়র পারিষদ বাণীব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অভিযোগ ছিল। যেহেতু তিনি জেলা স্বাস্থ্য দফতরের (district health department) মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত, তাই ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা তাঁদের হাতে নেই। তবে আগের মতো এবারও জেলা স্বাস্থ্য দফতরকে বিষয়টি জানানো হবে।

নিউজ পোল ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/

বর্তমানে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করছে প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। তবে মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন অনেকেই।