নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়ার পঞ্চাননতলা রোডের কাছে বঙ্কিম পার্কের পাশে অবস্থিত রাজ্যের প্রাচীনতম সরস্বতী মন্দির (Oldest Temple)। মন্দিরটি ১৯২৩ সালের ২৮ জুন প্রতিষ্ঠিত হয়। কয়েক বছর আগে একটি সরস্বতী মন্দির তৈরি হয় উদয়নারায়ণপুরে । কিন্তু তার আগে পর্যন্ত পঞ্চাননতলার মন্দিরটিকেই রাজ্যে একমাত্র সরস্বতী মন্দির (Oldest Temple) হিসেবে ধরা হত। এখানে ১০৮ টি মাটির খুড়ি, বিশেষ ধরনের বড় বাতাসা এবং ফল দিয়ে শ্বেত পাথরের সরস্বতী প্রতিমাকে পুজো দেওয়াই রীতি।
নিউজ পোল ইউটিউব লিংক: https://youtu.be/P29UjdiL1dw?si=X9tLLJp6AZAGoS8I
ইতিহাসবিদ অসিত কুমার বন্দোপাধ্যায় তাঁর হাওড়া শহরের ইতিবৃত্ত গ্রন্থে এই মন্দিরের উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, উমেশচন্দ্র দাস নামে এক ব্যক্তি রাজস্থান থেকে শ্বেতপাথরের সরস্বতী মূর্তি এনে সেটি তাঁর বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। উমেশ্চন্দ্র দাসের পৈতৃক বাড়ি উত্তর ২৪ পরগণার বারাসাতে ছিল। বর্গী আক্রমণের ভয়ে তাঁদের পরিবার হুগলির বাঁশবেড়িয়ায় চলে আসে। ১৮৫৬ থেকে ১৮৮৭ পর্যন্ত তিনি হাওড়া জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন এবং পরবর্তীকালে পঞ্চানন তলা রোডের ওই বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। তাঁর নামেই ওই সরু গলির নামকরণ করা হয়েছে উমেশচন্দ্র দাস লেন।
উমেশ চন্দ্র দাসের পরিবার ছিল শিক্ষার উৎকর্ষতা এবং তাঁর চার ছেলে সহ পুত্রবধূ ও নাতি নাতনির মধ্যে অনেকেই ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হয়েছেন। এই শিক্ষামূলক পরিবেশ বজায় রাখতে তিনি ভাবেন সরস্বতী পুজো প্রতিষ্ঠা করার কথা। তাঁর মেজো ছেলে রণেশচন্দ্র দাস শিবপুরের এক কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে কর্মসূত্রে রাজস্থান চলে যান এবং সেখান থেকে সরস্বতী মূর্তি আনা হয়েছিল। তবে উমেশ চন্দ্র দাস মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। কারণ ১৯১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁর মৃত্যু ঘটে। তাঁর মৃত্যুর দশ বছর পর ১৯২৩ সালের ২৪ জুন মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মন্দিরটির উচ্চতা প্রায় ৪ ফুট।
সরস্বতী পূজার দিনে বিশেষ সাজে সজ্জিত হয়। দেবী সরস্বতী বসে আছেন একটি হাঁসের ওপর, হাতে বীণা। প্রতিমাটি শ্বেত পাথরের। আগের দিন থেকেই মন্দিরে ফুল মালা আলো দিয়ে সাজানো হয়। সরস্বতী পুজোর দিন বিশেষ উৎসব অনুষ্ঠিত হয় যেখানে শয়ে শয়ে মানুষ পুজো দিতে মন্দিরে উপস্থিত হন।
