বিপত্তারিণীর দিনে বিপদের অবসান, ডায়মন্ড হারবারে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ভাইপোর রাজকীয় অফিস

অপরাধ আইন রাজনীতি রাজ্য
নিউজপোল ব্যুরো: ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্রাজ্যে এবার আছড়ে পড়ল উত্তরপ্রদেশের কায়দায় এক বিধ্বংসী ও অভাবনীয় পলিটিক্যাল বুলডোজার! আজ শনিবার, ১৮ জুলাই পবিত্র বিপত্তারিণী ব্রতের পুণ্যলগ্নেই এক নজিরবিহীন অ্যাকশন ঘটিয়ে সরাসরি গুঁড়িয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হলো খোদ ‘ভাইপো’-র রাজনৈতিক কার্যালয়।  এতকাল যে অফিস থেকে পুরো তল্লাটের ওপর রাজত্ব চালানো হতো, আজ সেখানে কেবলই ইটের স্তূপ আর ছাইপাঁশ!
বুলডোজারের বিধ্বংসী গর্জনের মাঝে রাজপথে নেমে এসে আজ উল্লাসে ফেটে পড়েন এলাকার শয়ে শয়ে নির্যাতিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। ভাঙা অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে এক উত্তেজিত বিজেপি কর্মী ক্যামেরার সামনে সরাসরি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “বিগত দিনে এই অফিস থেকে বসে আমাদের ওপর কী পরিমাণ অমানুষিক অত্যাচার করা হয়েছে, তা কেবল আমরাই জানি! আমাদের ঘর থেকে বেরোতে দেওয়া হতো না, যখন-তখন মারধর করা হতো। আজ পবিত্র বিপত্তারিণীর দিনে এই পুরো এলাকার সব বিপদের আসল খনিটাকেই আমরা উপড়ে ফেলে দিলাম!” দীর্ঘদিনের জমে থাকা পুঞ্জীভূত ক্ষোভের আগুন আজ যেভাবে এই অবৈধ ডেরার ওপর আছড়ে পড়েছে, তা দেখে কার্যত স্তম্ভিত রাজনৈতিক মহল।
তবে  বিজেপি সমর্থক।ভাঙা ইটের ওপর দাঁড়িয়ে অত্যন্ত ক্ষুরধার ভাষায় গর্জে উঠে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে স্বৈরাচারী রাজত্ব চালানোর জন্য এই অফিস থেকেই জন্ম দেওয়া হয়েছিল শাহজাহান আর জাহাঙ্গিরের মতো সমাজবিরোধীদের! বাবর থেকে শুরু করে ঔরঙ্গজেবের মতো অত্যাচারী ঘাতকদের জন্ম হয়েছে খোদ অভিষেকের এই ডেরা থেকেই, যার জন্য আজ আমাদের সোনার পশ্চিমবঙ্গ পুরোপুরি রসাতলে চলে গিয়েছে। তাই সবার আগে দরকার ছিল এই অবৈধ ও পাপের আঁতুড়ঘরটাকে সমাজ থেকে চিরতরে উপড়ে ফেলা!” তৃণমূলের এই মিনি নবান্ন হিসেবে পরিচিত কার্যালয়ে বুলডোজার চলায় ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে রীতিমতো শ্মশানের নীরবতা নেমে এসেছে। দুর্নীতি ও গুন্ডামির এই মেগা আখড়া এক নিমেষে ধূলিসাৎ হওয়ার পর, ডায়মন্ড হারবারের রাজনীতি আগামী কয়েক ঘণ্টায় কোন নতুন সংঘাতের রূপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।