১ কোটির মেগা হুঙ্কার একেবারে ঠান্ডা! দমদম বিমানবন্দর ছোঁয়ার আগেই থমকে গেল ‘কালো দিন’-এর আন্দোলন!

breakingnews আইন রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ডেস্ক: কলকাতা বিমানবন্দর ঘিরে শুক্রবার তৈরি হয়েছিল উত্তেজনার আবহ। ১ কোটির মেগা হুঙ্কার একেবারে ঠান্ডা! বাঁকড়া মসজিদে নামাজ পড়া নিয়ে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। তবে শেষ মুহূর্তে প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা এবং নিষেধাজ্ঞার জেরে সেই কর্মসূচি আর এগোয়নি। ফলে শুরু হওয়ার আগেই থেমে গেল আন্দোলন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রানওয়ের খুব কাছে থাকা বাঁকড়া মসজিদ এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে বাইরের মানুষের প্রবেশ এবং নামাজ আদায়ে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে দিনটিকে ‘কালা দিবস’ হিসেবে পালন করার ডাক দিয়েছিলেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। তাঁর দাবি ছিল, বিষয়টি ধর্মীয় অধিকার ও মানুষের অনুভূতির সঙ্গে জড়িত।

প্রতিবাদ ঘিরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেই কারণে বিমানবন্দর চত্বরজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বি.এন.এস. ১৬৩ ধারা কার্যকর থাকায় কোনও ধরনের জমায়েতের অনুমতি ছিল না। প্রথমে বড় আন্দোলনের বার্তা দিলেও, শেষ পর্যন্ত সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বিমানবন্দরের গেট নম্বর ৭ পর্যন্ত গিয়ে ফিরে আসেন। কোনও বিক্ষোভ বা জমায়েত না করে তিনি জানান, সংঘাত নয়, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। পরে কর্মসূচি প্রত্যাহারের কথাও ঘোষণা করা হয়।

এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে, ধর্মীয় ইস্যুতে রাজ্য সরকার কেন স্পষ্ট অবস্থান জানাচ্ছে না। অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জাতীয় স্বার্থের বিষয় এবং সেই কারণেই নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন নজর একটাই— বাঁকড়া মসজিদ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে? আলোচনার মাধ্যমে কোনও সমাধান বেরিয়ে আসে, নাকি বিষয়টি আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্কের রূপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যবাসী।