নিউজপোল ব্যুরো: আজ শুক্রবার সকালে এক বুক ফাটানো আর্তনাদ আর গোঙানিতে থমকে গেল গোটা মুর্শিদাবাদ।মুর্শিদাবাদের কাটোয়া-আজিমগঞ্জ রেলশাখার কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝামাঝি এক হাড়হিম করা দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী। বহরমপুর থানার গোবিন্দপুর রেলগেটে লাইনে থাকা একটি স্কুলভ্যান ও সাইকেল আরোহীকে সজোরে পিষে দিয়ে চলে গেল নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ভয়ংকর ছিল যে, লোহার চাকার তলায় পড়ে খেলনা গাড়ির মতো দুমড়ে-মুচড়ে ছিটকে যায় স্কুলগাড়িটি। ঘটনাস্থলেই তাজা রক্তের বন্যায় ভেসে যায় চারপাশ। এই মর্মান্তিক কাণ্ডে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন ২ নিষ্পাপ শিশু এবং এক বৃদ্ধ ব্যক্তি।
কিন্তু কীভাবে ঘটল এই চরম শিউরে ওঠা কাণ্ড? প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে উঠে আসছে এক মারাত্মক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য! জানা গিয়েছে, লাইনে একটি ট্রেন চলে যাওয়ার পর গেট না নামায় স্কুলভ্যানটি লাইন পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু ঠিক তখনই অন্য লাইন দিয়ে ঝড়ের গতিতে ধেয়ে আসে দ্বিতীয় প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি। অভিযোগের তির সরাসরি ডিউটিতে থাকা গেটম্যানের দিকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই গেটম্যান সকাল সকাল সম্পূর্ণ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বুঁদ হয়ে পড়েছিলেন! আর সেই কারণেই লাইনে পর পর ট্রেন চলে এলেও গেট ফেলার কোনো হুঁশ ছিল না তাঁর। এই গাফিলতির জেরেই লাইনে উঠে পড়েছিল বাচ্চাদের নিয়ে যাওয়া ছোট গাড়িটি।
এই ভয়ংকর ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই এলাকায় ছুটে যায় রেল পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন। উদ্ধারকাজে হাত লাগান গ্রামবাসীরাও। লাইনের ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রক্তাক্ত স্কুলব্যাগ আর ছোপ ছোপ রক্তের দাগ দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি উদ্ধারকারীরাও। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আহত শিশুদের উদ্ধার করে প্রথমে কর্ণসুবর্ণ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে বর্তমানে ৬ জন চিকিৎসাধীন। বাকি আশঙ্কাজনক শিশুদের তড়িঘড়ি মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে। গুরুতর জখম হয়েছেন স্কুলভ্যানের চালকও। দুর্ঘটনার জেরে কাটোয়া-আজিমগঞ্জ শাখায় বেশ কিছুক্ষণের জন্য ট্রেন চলাচল পুরোপুরি থমকে যায়।
রেল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় কড়া ও জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, কর্তব্যের গাফিলতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই ওই গেটম্যান এবং সুপারভাইজারকে চাকরি থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। দুর্ঘটনার আসল কারণ খুঁজতে আজ সকালেই হাওড়া স্টেশন থেকে এডিআরএম-এর নেতৃত্বে ১০ জনের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্তকারী দল স্পেশাল ইন্সপেকশন কারে চড়ে দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। ভোরের আলোয় এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে গোটা এলাকায় এখন শুধুই শোকের ছায়া।
