“আপনার হাতে তো এখন অনেক সময়, কারখানাটা একটু দেখে যান! দরকার হলে সরকারি হেলিকপ্টার দেব!” প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে মেগা অফার শুভেন্দুর।

breakingnews রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: বাঁকুড়ার মেজিয়ায় শ্যাম স্টিলের নতুন কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে এসে এক ঢিলে একাধিক পাখি মারলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! রাজ্যে ১৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল বিনিয়োগের এই মেগা মঞ্চ থেকেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ ও খোঁচা দিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, এই বিরাট শিল্প বিনিয়োগের ফলে পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক চেহারাটাই বদলে যাবে। উন্নয়নের স্বার্থে সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি এই বিনিয়োগকারীদের সবাইকে বাংলায় স্বাগত জানাই।” তবে এর পরেই সুর চড়িয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নজিরবিহীন কটাক্ষ করেন শুভেন্দু।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তাঁকে কড়া ভাষায় বিঁধে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বলব, আপনার হাতে এখন অনেক সময়। এই প্ল্যান্টের ভিতরটা একবার এসে দেখে যাবেন।” কেন এমন কথা বললেন, তার ব্যাখ্যাও মঞ্চ থেকে দেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর তোপ, “উনি কথায় কথায়, বিশেষ করে মারোয়ারি বা হিন্দিভাষী মানুষদের বলেন, এরা নাকি বাহারি অর্থাৎ বাইরে থেকে এসেছে! বলেন—বাংলাকে গুজরাত হতে দেব না, উত্তরপ্রদেশ হতে দেব না। আপনি একবার নিজে এসে এদের কাজ দেখে যান। আমাকে জানাবেন, আমি দেখার জন্য আপনাকে সরকারি হেলিকপ্টারটাও দিয়ে দেব! কিন্তু আর যাই বলুন, দয়া করে এদেরকে আর বাহারি বলবেন না।”

এর পরেই রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ‘সিন্ডিকেট রাজ’ নিয়ে মারাত্মক ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিস্ফোরক দাবি করে তিনি বলেন, “এবার যদি আমাদের এই নতুন সরকার না আসত, তবে এই সমস্ত বড় শিল্পপতিরা ওড়িশা চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পাকা করে ফেলেছিল! কারণ আগের সরকারের আমলে রাজ্যে শুধুই চলত সিন্ডিকেটরাজ আর তোলাবাজি। রাস্তায় কোনো বড় মালবাহী গাড়ি নিয়ে বের হলেই একদল লোক হাত পাতত। চলত গুন্ডা ট্যাক্স আদায়ের দাপট! কী একটা ভয়ানক অবস্থা তৈরি করে রেখেছিলেন আপনারা!” রাজ্যে শিল্পের পরিবেশ ফেরানোর গ্যারান্টি দেওয়ার পাশাপাশি প্রাক্তন সরকারের তোলাবাজি সংস্কৃতির কঙ্কালসার রূপ এভাবেই প্রকাশ্য মঞ্চে টেনে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী।