নিউজপোল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদের গোবিন্দপুর রেলগেটের সেই হাড়হিম করা ট্রেন দুর্ঘটনায় এবার আরও এক চরম ও চাঞ্চল্যকর মোড়! সময় যত গড়াচ্ছে, বুক ফাটানো কান্নার রোলের মাঝেই বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। আজ শুক্রবারের এই মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪। ভোরের আলোয় আস্ত একটা স্কুলভ্যানকে ট্রেনের মুখে ঠেলে দেওয়া সেই ডিউটিরত মদ্যপ গেটম্যানকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। লোকাল লোকজনের তোলা সেই বিস্ফোরক অভিযোগই সত্যি প্রমাণিত হলো—কর্তব্যের সময় সম্পূর্ণ অপ্রকৃতিস্থ ও নেশায় বুঁদ হয়ে থাকার অপরাধেই ওই গেটম্যানকে এবার গারদের ওপাড়ে পাঠাল প্রশাসন।
এদিকে, এই ভয়ংকর দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই দুর্ঘটনাস্থলে ঝড়ের গতিতে পৌঁছে যান প্রাক্তন রেল প্রতিমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। রক্তাক্ত রেললাইন আর দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়ির টুকরো দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েই প্রথমে প্রত্যক্ষদর্শীদের মুখে গেটম্যানের মদ্যপ থাকার কায়দা শোনেন এবং সঙ্গে সঙ্গে স্পট থেকে সরাসরি দেশের রেলমন্ত্রীকে ফোন লাগান অধীর বাবু। রেলমন্ত্রীকে গোটা ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, “এটা সম্পূর্ণভাবে রেলের কর্মচারীর গাফিলতি। এখানকার যে গেটম্যান, সে-ই আসল খুনি, ও-ই মূল অপরাধী।” অধীর চৌধুরীর ফোনের পরেই রেলের তরফে জানানো হয় যে, ওই অপরাধী গেটম্যানকে ইতিমধ্যেই শ্রীঘরে পোরা হয়েছে। তবে শুধু গেটম্যানের ঘাড়েই দোষ চাপিয়ে থামেননি অধীর বাবু। রেলের খামখেয়ালিপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সাফ বলেন, এখানে পরিকাঠামোর চরম অভাব রয়েছে এবং এর একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।
এই চরম শোকের আবহে মৃত ও আহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে বড়সড় আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। রেলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং গুরুতর আহতদের চিকিৎসার জন্য আড়াই লক্ষ টাকা করে মেগা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। যদিও টাকার অঙ্কে হারানো কোল আর কোনোদিন ফিরবে না, তা ভালো করেই জানে গোটা মুর্শিদাবাদ। রেলের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ও তড়িঘড়ি গ্রেফতারির পরেও ক্ষোভের আগুন জ্বলছে এলাকায়
