নিউজপোল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদের সেই হাড়হিম করা ট্রেন দুর্ঘটনা নিয়ে এবার সরাসরি মুখ খুললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার সকালে বাঁকুড়ার মেজিয়ায় শ্যাম স্টিল কারখানার নতুন ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথেই এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। ঘটনার পরেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫। হাসপাতালে আরও দুটি নিষ্পাপ শিশু ও একজন সাইকেল আরোহীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, “মানুষের ভুলের জন্য এটা হয়েছে। এটা কোনও দুর্ঘটনা নয়। এটা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ গেটম্যান করেছে। এটা ক্ষমা করার মতো জায়গায় নেই।” ফুল ফুটতে না ফুটতেই যেভাবে বাচ্চাগুলোর প্রাণ চলে গেল, তাকে চরম অপরাধ হিসেবেই দেখছেন রাজ্যের প্রশাসন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুক্রবার ভোর থেকেই তিনি নিজে গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছিলেন। বাঁকুড়ায় কপ্টার থেকে নামার পর থেকেই মুর্শিদাবাদের এসপি, জেলাশাসক এবং রাজ্যের মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষের সঙ্গে দফায় দফায় যোগাযোগ করেন তিনি। এমনকি দেশের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গেও এই বিষয়ে তাঁর সরাসরি কথা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি সকাল ৯টাতেই এসপি-কে নির্দেশ দিয়েছিলাম গেটম্যানকে গ্রেফতার করার জন্য। কারণ আমি প্রাথমিক রিপোর্ট পেয়ে গিয়েছিলাম। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশই ওকে গ্রেফতার করেছে।” তবে শুধু গ্রেফতার করেই শান্ত হননি মুখ্যমন্ত্রী। ধৃত গেটম্যান ডিউটির সময়ে মদ্যপ বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিল কি না, তা ১০০% নিশ্চিত করতে পুলিশকে অবিলম্বে তার ‘মেডিকেল টেস্ট’ করানোর কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শিল্পের সূচনার আনন্দের দিনেও এমন মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মৃত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি জখমদের চিকিৎসার সবরকম ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে আরও ২ জন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এই চরম গাফিলতির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার যে বিন্দুমাত্র রেয়াত করার মুডে নেই, তা মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া পদক্ষেপ ও কড়া বার্তাতেই পরিষ্কার। দোষী গেটম্যানের যাতে কঠোরতম শাস্তি হয়, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বাংলা।
