নিউজ পোল ব্যুরো:আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে শিলিগুড়ির কাওয়াখালি ময়দান সাক্ষী থাকল এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক উন্মাদনার, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এক তীব্র শাণিত ও আক্রমণাত্মক মেজাজে অবতীর্ণ হলেন। রবিবাসরীয় দুপুরে জনসমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গে সওয়ার হয়ে তিনি উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের অবহেলা এবং দুর্নীতির কঙ্কালসার অবস্থাকে হাতিয়ার করে কার্যত পরিবর্তনের শঙ্খনাদ করেন। উপস্থিত জনতার অভূতপূর্ব ভিড় দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি জানান যে, এমনকি তাঁর নিজের রাজ্য গুজরাতেও এমন স্বতঃস্ফূর্ত জনজোয়ার বিরল। ভাষণের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর নিশানায় ছিল শাসকদলের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনকাল, যেখানে তিনি রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের দুর্দশার কথা তুলে ধরে বলেন যে, যারা দেড় দশক আগে প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়া ছিল, আজ তারা কর্মহীন যৌবনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এক পঙ্গু শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রশাসনিক স্থবিরতা দেখছে। তৃণমূল সরকারকে ‘তৃণমূল অ্যান্টি নর্থবেঙ্গল পার্টি’ হিসেবে নতুন বিশেষণে ভূষিত করে তিনি অভিযোগ করেন যে, উত্তরবঙ্গ যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়, শাসকদল তখন কলকাতায় উৎসবে মগ্ন থাকে।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/04/12/asha-bhonsle-passes-away-indian-music-legend-news/
রাজ্য সরকারের আর্থিক বরাদ্দের খতিয়ান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi)তোষণ-রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে দাবি করেন যে, মাদ্রাসার জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও উত্তরবঙ্গের আদিবাসী সমাজ ও চা-শ্রমিকদের উন্নয়নে সরকার চরম উদাসীন। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মন্থর গতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি জানান যে, পার্শ্ববর্তী রাজ্যে জল-জীবন মিশনের কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে আদিবাসী গ্রামগুলোতে কাজের অগ্রগতি যৎসামান্য। মতুয়া ও নমশূদ্র সম্প্রদায়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবিকে মান্যতা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে নাগরিকত্বের অধিকার সুনিশ্চিত করা হবে এবং মহিলাদের আর্থিক ক্ষমতায়নের জন্য মাসিক তিন হাজার টাকা ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেন’স নেক’-এর কৌশলগত গুরুত্ব অনুধাবন করে এই অঞ্চলকে উত্তর-পূর্ব ভারতের মূল বাণিজ্যকেন্দ্রে উন্নীত করা, বিশ্বমানের হাসপাতাল নির্মাণ এবং চা-শিল্পের আধুনিকীকরণের খসড়াও তিনি জনসমক্ষে পেশ করেন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
রাজবংশী জননেতা নগেন্দ্রনাথ রায় কিংবা ক্রিকেটার রিচা ঘোষের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে স্থানীয় ভাবাবেগের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের পাশাপাশি তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন। কেন্দ্রীয় তহবিলের প্রতিটি পাই-পয়সার হিসেব আদায় করার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি অনুপ্রবেশ রোখা এবং মাফিয়া রাজ খতম করার মাধ্যমে বাংলাকে তার হারানো গরিমা ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। পরিশেষে, বাম-তৃণমূলের দীর্ঘ পাঁচ দশকের শাসনের ব্যর্থতার খতিয়ান টেনে প্রধানমন্ত্রী বাংলার মানুষের কাছে উন্নয়নের গতি বাড়াতে একবার ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুযোগ প্রার্থনা করেন। শিলিগুড়ির এই জনসভা কেবল একটি নির্বাচনী প্রচার নয়, বরং উত্তরবঙ্গকে কেন্দ্র করে শাসকদলের দুর্ভেদ্য দুর্গে আঘাত হানার এক সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক মহাযুদ্ধের ইশতেহার হিসেবেই রাজনৈতিক মহলে প্রতিভাত হয়েছে।
