নিউজ পোল ব্যুরো:ভারতীয় সঙ্গীত জগতের একটি দীর্ঘ ও বর্ণময় অধ্যায়ের অবসান ঘটল। সুরের মায়া কাটিয়ে চিরনিদ্রায় আচ্ছন্ন হলেন কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে (Asha Bhonsle death news)। রবিবার দুপুরে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। চিকিৎসকদের দীর্ঘ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যা এবং একাধিক অঙ্গ বিকল হওয়ার কারণে লড়াই থামল এই সুরসম্রাজ্ঞীর। তাঁর প্রয়াণে কেবল চলচ্চিত্র জগৎ নয়, গোটা দেশ এক গভীর শোকের ছায়ায় নিমজ্জিত।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/04/12/west-bengal-election-police-reshuffle-2026/
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার সন্ধ্যায়। হঠাৎই শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করেন শিল্পী। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ফুসফুসে সংক্রমণ এবং অত্যধিক ক্লান্তির কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনায় প্রার্থনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্টরা। কিন্তু রবিবার দুপুরের বিষণ্ণ বার্তা সব আশাকে ম্লান করে দিয়ে সংগীত জগতের একটি স্বর্ণালী যুগের সমাপ্তি ঘোষণা করল।
শিল্পীর পুত্র আনন্দ ভোঁসলে জানিয়েছেন, সোমবার সকাল ১১টায় লোয়ার পারেলের ‘কাসা গ্র্যান্ডে’ বাসভবনে শিল্পীর দেহ শায়িত রাখা হবে শেষ শ্রদ্ধার জন্য। এরপর বিকেল ৪টে নাগাদ মুম্বইয়ের শিবাজী পার্কে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের চিকিৎসক প্রতীত সমদানি জানিয়েছেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করলেও বার্ধক্যজনিত কারণে শরীর আর সঙ্গ দিচ্ছিল না।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
আশা ভোঁসলের প্রয়াণে (Asha Bhonsle death news) গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তাঁর বার্তায় স্মরণ করেন যে, কীভাবে এই মহান প্রতিভা প্রজন্মের পর প্রজন্ম আমাদের হৃদয়ে রাজত্ব করেছেন। বাংলার সঙ্গে তাঁর নাড়ির টান ছিল অবিচ্ছেদ্য; কয়েক দশকের দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি অসংখ্য কালজয়ী বাংলা গান উপহার দিয়েছেন আমাদের। ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’-এ ভূষিত করেছিল।
আশা ভোঁসলে মানেই ছিল এক বহুমুখী প্রতিভা। ১৯৪৩ সালে শুরু হওয়া তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রাপথে তিনি পেয়েছেন দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, পদ্মবিভূষণ এবং দু-বার জাতীয় পুরস্কার। গ্র্যামির মঞ্চেও পৌঁছে গিয়েছিল তাঁর সুরের প্রতিধ্বনি। আজ তিনি নেই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া হাজার হাজার গান অমর করে রাখবে এই সুরের জাদুকরীকে।
