নিউজ পোল ব্যুরো:আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal election police reshuffle) সামনে রেখে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনে বড়সড় রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশ মিলিয়ে একযোগে ৫০-এরও বেশি পদে বদলি ঘটানো হয়েছে। কমিশনের এই পদক্ষেপে স্পষ্ট বার্তা—ভোট প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ রাখতে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে নারাজ তারা।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/04/11/yogi-adityanath-bengal-election-campaign-bjp/
কলকাতা পুলিশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বদল আনা হয়েছে। যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) পদে রূপেশ কুমারের পরিবর্তে দায়িত্ব পেয়েছেন সোমা দাস মিত্র। যুগ্ম কমিশনার (সদর) পদে মিরাজ খালিদের জায়গায় দায়িত্বে এলেন সুদীপ সরকার। একইসঙ্গে যুগ্ম কমিশনার (ইন্টেলিজেন্স) পদ থেকে সৌম্য রায়কে সরিয়ে সেই দায়িত্বে আনা হয়েছে দেবস্মিতা দাসকে।
শুধু শীর্ষস্তরেই নয়, ডেপুটি কমিশনার স্তরেও বড়সড় পরিবর্তন হয়েছে। কলকাতা ও রাজ্য পুলিশ মিলিয়ে মোট সাত জন ডিসি-কে বদলি করা হয়েছে। ভাঙড়ের ডিসি সৈকত ঘোষের জায়গায় মণীশ জোশী, কলকাতা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) দীপক সরকারের পরিবর্তে ভিএসআর অনন্তনাগ দায়িত্ব পেয়েছেন। ডিসি (পূর্ব), (দক্ষিণ-পূর্ব) ও (উত্তর) পদে যথাক্রমে প্রশান্ত চৌধুরী, সৈকত ঘোষ ও প্রদীপকুমার যাদবকে নিয়োগ করা হয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (সদর) পদে ২০১৭ ব্যাচের আইপিএস ইন্দ্রজিৎ সরকার এবং শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (পূর্ব) পদে রানা মুখোপাধ্যায়কে আনা হয়েছে। বেলডাঙার এসডিপিও পদে উত্তম গড়াইয়ের পরিবর্তে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আনন্দজিৎ হোড়কে। সম্প্রতি এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে ঘিরে বেলডাঙায় উত্তেজনা এবং এনআইএ তদন্তের প্রেক্ষিতে এই বদলকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
এছাড়াও সুন্দরবন পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার (সদর) পদে চন্দন ঘোষকে নিয়োগ করা হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন থানায় আইসি, ওসি ও অতিরিক্ত ওসি স্তরেও একযোগে বদলি হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই (West Bengal election police reshuffle) রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদলের ধারাবাহিকতা চলছে। ইতিমধ্যেই মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিককে সরানো হয়েছে। একাধিক জেলার জেলাশাসকদেরও বদলি করা হয়েছে।
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, যাঁদের অপসারণ করা হয়েছে, তাঁদের আপাতত কোনও নির্বাচন-সংক্রান্ত দায়িত্বে রাখা যাবে না। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই কমিশনের এই কড়া ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’!
