নিউজ পোল ব্যুরো:নতুন সরকারের প্রথম উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠককে ঘিরে রবিবার সকাল থেকেই তৎপর হয়ে উঠল রাজ্য প্রশাসন। সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র (Suvendu Adhikari Nabanna meeting) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে গোটা নবান্ন চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখলেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দা। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুলিশের একাধিক শীর্ষকর্তা ও বিশাল পুলিশ বাহিনী। সূত্রের খবর, সোমবার নবান্নের সভাঘরেই নতুন মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। যদিও ভবিষ্যতে মহাকরণ থেকেই প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে, তবে সেই পরিকাঠামো এখনও সম্পূর্ণ প্রস্তুত না হওয়ায় আপাতত নবান্ন থেকেই প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করছে নতুন বিজেপি সরকার। রবিবারের পরিদর্শনে নবান্ন এলাকা, হাওড়া চত্বর এবং আশপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার খুঁটিনাটি পর্যালোচনা করেন পুলিশ আধিকারিকরা। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি, যান নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশপথ ও নজরদারি ব্যবস্থাও পরীক্ষা করে দেখা হয়।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/05/10/dilip-ghosh-slams-mamata-banerjee-opposition-unity-politics/
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবারের বৈঠকে (Suvendu Adhikari Nabanna meeting) উপস্থিত থাকবেন রাজ্য পুলিশের ডিজি, সিপি, আইজি, ডিআইজি-সহ একাধিক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক। শপথ গ্রহণের পরই রাজ্য পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি ও পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। সেই বৈঠকের পরপরই কলকাতা পুলিশে ব্যাপক রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিকে নতুন বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক নীতিতে দুষ্কৃতী দমনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেই প্রশাসনিক মহলের অভিমত। পুলিশ সূত্রে খবর, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সক্রিয় দাগি অপরাধীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে বিশেষ পুলিশ বাহিনী গঠনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। কয়েকজন অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসারের নেতৃত্বে এই বাহিনী পরিচালিত হবে বলে জানা গিয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
বিশেষত সীমান্তবর্তী জেলা— মুর্শিদাবাদ, মালদা এবং উত্তর ২৪ পরগনায় পাচারচক্র ও দুষ্কৃতী কার্যকলাপ রুখতেই বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের খাতায় ‘ফেরার’ থাকা অপরাধীদেরও দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন সরকারের প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকের আগেই আইনশৃঙ্খলা ও দুষ্কৃতী দমনে কড়া বার্তা দিতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব। নবান্ন ঘিরে রবিবারের তৎপরতা সেই প্রস্তুতিরই স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।
