নিউজ পোল ব্যুরো:বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়ে উঠল। বিজেপি-বিরোধী শক্তিগুলিকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এবার কড়া ভাষায় পাল্টা আক্রমণ শানালেন সদ্য শপথ নেওয়া মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপের মন্তব্য, “এতদিন বিরোধীদের কোনও জায়গা দেননি, সম্মান দেননি, বাঁচার অধিকারও দেননি। বিরোধীদের ঘরবাড়ি ভাঙা হয়েছে, তাঁদের মুখ দেখতেন না। আর আজ রাজনৈতিক চাপে পড়ে গাছে উঠতে হচ্ছে।”
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/05/10/agnimitra-pal-kalighat-jai-shri-ram-statement/
তাঁর আরও সংযোজন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘স্যান্ডউইচ রাজনীতি’ আর চলবে না। বাংলার মানুষ ইতিমধ্যেই তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছে।” দিলীপের (Dilip Ghosh) দাবি, নির্বাচনী পরাজয়ের পর তৃণমূল এখন গভীর রাজনৈতিক সংকটে। তাঁর কথায়, “আজ তাঁর পাশে কেউ নেই। এমনকি নিজের দলের কর্মীরাও ঘরছাড়া। আগে তাঁদের খোঁজ নিন।” রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপির বিপুল জয়ের আবহে বিরোধী শিবিরকে কোণঠাসা করতেই এই আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন বিজেপি নেতারা।
উল্লেখ্য, শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। একই দিনে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন দিলীপ ঘোষও। তাঁর পাশাপাশি মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু, অগ্নিমিত্রা পাল এবং অশোক কীর্তনীয়া। মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আগামী দিনের প্রশাসনিক পরিকল্পনা নিয়েও আশাবাদী সুর শোনা যায় দিলীপের গলায়। তিনি বলেন, “সবে কাজ শুরু হয়েছে। আগামী দিনে আরও মন্ত্রী শপথ নেবেন। সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
এদিকে শপথগ্রহণের পর শনিবার রাতেই কাঁথির বাড়িতে ফেরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার সকাল থেকেই তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় জমান অসংখ্য সাধারণ মানুষ ও বিজেপি সমর্থক। নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতেই সেখানে ভিড় করেন তাঁরা। যদিও সাধারণ মানুষের অসুবিধা এড়াতে অধিকারী পরিবারের তরফে কোনও অতিরিক্ত নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়নি। বাড়ির সামনে অস্থায়ী গার্ডরেল বসানো হলেও পরে তা সরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে যান চলাচলও ছিল স্বাভাবিক।প্রসঙ্গত, এ বারের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন দুই দফায় অনুষ্ঠিত হয়। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৬ জেলার ১৫২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়। দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল ভোট হয় আরও ১৪২টি কেন্দ্রে। ফল প্রকাশের পর ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি এককভাবে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করেছে। তবে ফলতা কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত থাকায় সেখানে আগামী ২১ মে পুনর্নির্বাচন হবে। ফল ঘোষণা করা হবে ২৪ মে।
