সেবার নামে বেআইনিভাবে গর্ভস্থ শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণের বিস্ফোরক অভিযোগে কাঁপছে অভিষেকের ‘সেবাশ্রয়’

breakingnews অপরাধ আইন রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্প ঘিরে এবার সামনে এল এক চরম চাঞ্চল্যকর ও ভয়ংকর অভিযোগ। ১৯৯৪ সালের গর্ভস্থ শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ বিরোধী আইন (PC & PNDT Act) সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে স্বাস্থ্য ক্যাম্পে বেআইনিভাবে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি ও এক্স-রে মেশিন ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। আর এই বিস্ফোরক অভিযোগের ভিত্তিতেই ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিসের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল একযোগে ৩টি বেসরকারি হাসপাতালে হাই-ভোল্টেজ তল্লাশি অভিযান চালাল। একটি নির্দিষ্ট এফআইআর (FIR)-এর সূত্র ধরে পুলিস ওই হাসপাতালগুলি থেকে নির্দিষ্ট মেশিনগুলি বাজেয়াপ্ত ও সিল করে দিয়েছে।

পুলিস সূত্রে জানা গেছে, কোনো রকম সরকারি নিয়ম বা বৈধ অনুমতি না মেনেই ওই বেসরকারি হাসপাতালগুলি থেকে দামি ইউএসজি ও এক্স-রে মেশিন তুলে এনে সেবাশ্রয় ক্যাম্পে চালানো হচ্ছিল। এই বেআইনি কারচুপির অভিযোগে মূলত তিনটি হাসপাতালকে চিহ্নিত করেছে পুলিস। প্রথমত, জগন্নাথ গুপ্তা মেডিক্যাল কলেজ, যেখান থেকে সেবাশ্রয় ক্যাম্পে মেশিন পাঠানো হয়েছিল। তদন্তকারী দল তাদের মেশিন সিল করেছে। দ্বিতীয়ত, সরার হাট নার্সিং হোম এবং তৃতীয়ত, ডায়মন্ড হারবারের কপাট হাটের ‘DMRI Hospital’—এই দুই জায়গাতেই রেইড করে মেশিন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

এই চক্রের শিকড় কতদূর তা জানতে ইতিমধ্যেই খোকন বেহেরা নামের এক ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়ে জোরদার জেরা করছে পুলিস। শুধু তাই নয়, ডায়মন্ড হারবার এলাকার প্রাক্তন দুই কাউন্সিলরকেও থানায় তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। শাসকদলের নেতার কর্মসূচীকে হাতিয়ার করে কীভাবে এমন বেআইনি কাজ চলছিল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র শোরগোল পড়ে গেছে।

পুলিসের স্পষ্ট দাবি, গর্ভস্থ শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ রুখতে দেশে কঠোর আইন রয়েছে। সেই আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কীভাবে এই মেশিনগুলি বাইরে নিয়ে যাওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো বড়সড় চক্র বা প্রভাবশালী কেউ সক্রিয় ছিল কি না, তা জানতে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিস সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে। আপাতত ৩টি নামী চিকিৎসা কেন্দ্রের মেশিন সিল হওয়ার ঘটনায় গোটা জেলায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।