নিউজ পোল ব্যুরো:আসন্ন সংসদ অধিবেশনকে ঘিরে লোকসভার আসনবিন্যাসের প্রশ্নে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। রবিবার অনুষ্ঠিত সর্বদল বৈঠকের পর কালীঘাট তৃণমূলকে কার্যত ‘ছোট দল’ বলে কটাক্ষ করে সংসদে প্রথম সারিতে বসার দাবি জানাল ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া তথা এনসিপিআই (NCPI)। একই সঙ্গে সর্বদল বৈঠকে কালীঘাট তৃণমূলের প্রতীকী সভাত্যাগেরও তীব্র সমালোচনা করেছে দলটি।
আরও পড়ুন:Arup Biswas:’আমার মনে হয়, মেসিই গোল্ডেন বুট পাবে’ বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে বাজি অরূপ বিশ্বাসের!
সংসদের আসন্ন অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত সর্বদল বৈঠকে এনসিপিআই-কে আমন্ত্রণ জানানো নিয়েই আপত্তি তোলে কালীঘাট তৃণমূল। প্রতিবাদস্বরূপ দলের প্রতিনিধিরা বৈঠক থেকে প্রতীকী সভাত্যাগ করলেও পরে ফের আলোচনায় যোগ দেন। এই ঘটনাকেই হাতিয়ার করে পাল্টা আক্রমণ শানান এনসিপিআই-এর লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
সুদীপের দাবি, বর্তমান লোকসভায় তাঁদের দলে রয়েছেন ২০ জন সাংসদ, যেখানে কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা মাত্র আট। সেই বাস্তবতা মেনেই সংসদে আসনবিন্যাস হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, “যে দলের যত সাংসদ, সেই অনুপাতে সংসদে মর্যাদা ও আসন বরাদ্দ হওয়া উচিত। ছোট দলকে প্রথম সারিতে বসানোর কোনও যৌক্তিকতা নেই।” পাশাপাশি তিনি বলেন, রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনও সর্বদল বৈঠক থেকে ওয়াকআউটের ঘটনা দেখেননি।
এনসিপিআই-এর (NCPI) মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদারও কালীঘাট তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বলেন, সর্বদল বৈঠক বয়কট বা ওয়াকআউট সংসদীয় গণতন্ত্রের পরিপন্থী। তাঁর মতে, ২৮ জন সাংসদ থেকে আট জনে নেমে আসার কারণ নিয়ে আত্মসমালোচনা করা উচিত। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃত রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপিআই-কে পৃথক সংসদীয় দল হিসেবে স্বীকৃতি এবং আলাদা আসনবিন্যাসের দাবিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ মহুয়া মৈত্র এই দাবিকে অসাংবিধানিক বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, স্পিকার এখনও ওই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে পৃথক দল হিসেবে স্বীকৃতি দেননি। এমনকি লোকসভার সরকারি ওয়েবসাইটেও এখনও তৃণমূলের সাংসদসংখ্যা ২৮-ই দেখানো হচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে কোন ভিত্তিতে এনসিপিআই-কে সর্বদল বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হল, তা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই অবস্থান নেন প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়ও।
মহুয়ার মন্তব্যের জবাবে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন লোকসভার স্পিকার। সংসদের অধিবেশন শুরু হলেই কার কোথায় বসার ব্যবস্থা হয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। পাশাপাশি তাঁর দাবি, সাংসদসংখ্যার বিচারে এনসিপিআই বর্তমানে এনডিএ-র দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক এবং টিডিপি ও জেডিইউ-এর থেকেও তাঁদের সাংসদ বেশি। তিনি আরও জানান, তাঁদের দলে তিন জন মুসলিম ও আট জন মহিলা সাংসদ রয়েছেন, যা দলের প্রতিনিধিত্বের বৈচিত্র্য তুলে ধরে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারও এনসিপিআই-কে সর্বদল বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, এনসিপিআই স্পিকারের কাছে স্বীকৃতির আবেদন করেছে এবং পৃথক বসার ব্যবস্থার দাবিও জানিয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট সাংসদদের উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, সর্বদল বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সব রাজনৈতিক পক্ষকে আমন্ত্রণ জানানো সরকারের দায়িত্ব।
অন্যদিকে, আসন্ন আসন পুনর্বিন্যাস বিল নিয়ে আলোচনার জন্য পৃথক সর্বদল বৈঠক ডাকার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন কালীঘাট তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। ফলে সংসদের অধিবেশন শুরুর আগেই সাংসদসংখ্যা, দলীয় স্বীকৃতি এবং সংসদে মর্যাদার প্রশ্নে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
