বারুইপুরে TMC নেতা দ্বিজেন মণ্ডলের বাড়িতে মধ্যরাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ! পূজোর মুখে খাঁচায় খাঁচায় বোমা মজুতের বিস্ফোরক অভিযোগে বারুইপুরের লাল পোল এলাকা!

breakingnews অপরাধ কলকাতা রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: রাতের নিস্তব্ধতা আচমকাই ভেঙে গেল বিকট শব্দে! বারুইপুর পূর্বের উত্তরভাগ লাল পোল এলাকায় তৃণমূল নেতা দ্বিজেন মণ্ডলের দোতলা বাড়িতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বিস্ফোরণ ঘিরে ছড়াল তীব্র আতঙ্ক। বিস্ফোরণের অভিঘাতে বাড়ির একাংশ কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। দেওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উড়ে যায় দরজা-জানলা, ঘরের চালের অংশও ভেঙে পড়ে। শব্দ ও বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের বাড়িতেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের দাবি, বিস্ফোরণের শক্তি এতটাই বেশি ছিল যে দ্বিজেনের বাড়ির শাটার ও টিনের অংশ ছিটকে গিয়ে পড়ে পাশের বাড়িতে। রাতের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও মৃত্যুর খবর নেই। তবে বিস্ফোরণের পর আশপাশের কয়েকটি বাড়ির বাসিন্দা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ। ফলে রাতের সেই বিস্ফোরণকে ঘিরে সকালেও এলাকায় চাপা আতঙ্ক রয়েছে।

যে বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেটি তৃণমূল নেতা দ্বিজেন মণ্ডলের। বারুইপুর পূর্বের উত্তরভাগ লাল পোলের কাছেই তাঁর দোতলা বাড়ি। তৃণমূল সূত্রের খবর, এলাকায় যুব তৃণমূলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তবে স্থানীয়দের দাবি, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে তাঁকে এলাকায় তেমন দেখা যায়নি। ঘটনার সময়ও বাড়িতে ছিলেন না দ্বিজেন বলে জানা গিয়েছে।

বিস্ফোরণের কারণ নিয়েই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার থেকেই বিস্ফোরণ হয়ে থাকতে পারে। বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস জানিয়েছেন, ঘটনার পর রাতেই দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ফরেন্সিক দলও ঘটনাস্থল পরীক্ষা করবে। অর্থাৎ বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত আরও এগোনোর অপেক্ষা।

তবে পুলিশের প্রাথমিক অনুমানের পাশাপাশি অন্য দাবিও সামনে এসেছে। স্থানীয় কয়েকজন এবং এলাকার বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, দ্বিজেন মণ্ডলের বাড়িতে প্রচুর বোমা মজুত করা হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রমাণিত নয়। পুলিশের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, বাড়ি থেকে এখনও পর্যন্ত বিস্ফোরক জাতীয় কোনও বস্তু উদ্ধার হয়নি। তাহলে এত বড় বিস্ফোরণ কীভাবে ঘটল? সত্যিই কি সিলিন্ডার ফেটেই এই পরিস্থিতি, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে? বিস্ফোরণের জায়গা থেকে ফরেন্সিক তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা এলাকা।