নিউজপোল ব্যুরো: বাঙালির পাতে মাছ-মাংস, দুর্গাপুজোর উৎসব আর তার মাঝেই আচমকা ধর্মীয় ‘নিদান’—এই নিয়েই এখন তেতে উঠেছে বাংলা! কয়েকদিন আগের মন্তব্যে যে বিতর্কের আগুন জ্বলে উঠেছিল, এবার সেই আগুনেই গ্লাসগো থেকে মুখ খুললেন বাগেশ্বর বাবা। হাওড়ার লিলুয়ায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী দুর্গাপুজোর সময় প্যান্ডেলের পিছনে বা মঞ্চের নীচে আমিষ খাবার খাওয়ার সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, পুজোর পরিবেশের সঙ্গে এই ধরনের খাবারকে মেলানো উচিত নয়। এমনকি যারা দুর্গাপুজোর সময়ে আমিষ খান, তাঁদের ‘পাষণ্ড’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সেই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় তুমুল রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক।
বিজেপির একাধিক নেতাও স্পষ্ট করে দেন, বাংলার খাদ্যসংস্কৃতিতে মাছ-মাংসের জায়গা অস্বীকার করা যায় না। এমনকি দলের মধ্যেও এই মন্তব্য নিয়ে ভিন্ন সুর শোনা যায়। এমন উত্তপ্ত আবহেই এবার গ্লাসগো থেকে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাগেশ্বর বাবা। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম, তিনি কারও ব্যক্তিগত খাওয়া-দাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে চান না। বরং নিজের মতের সঙ্গে যাঁদের মিল নেই, তাঁদের থেকে তিনি দূরে থাকেন—এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ফলে অনেকের মতে, আগের মন্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর এবার খানিকটা ব্যাখ্যার সুরেই কথা বললেন তিনি।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার কৌশিকী অমাবস্যায় কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে আমিষ ভোগ গ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর পাতে ছিল মাছের মাথা, মাছ ভাজা ও বাসন্তী পোলাও। পুজো শেষে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনও সাধু বা ধর্মীয় ব্যক্তি নিজের মত প্রকাশ করতেই পারেন। সেই মত কেউ গ্রহণ করবেন, কেউ করবেন না—সিদ্ধান্তটা ব্যক্তিগত। তবে বিতর্ক এখানেই থামছে না। ভবানীপুরে বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের বিক্ষোভ নিয়েও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী ওই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
