নিউজপোল ব্যুরো: সোনার বাজারে আচমকা প্রশাসনের ‘লক’! দোকানের শাটার নামিয়ে নয়, একেবারে সরকারি সিল মেরে বন্ধ করে দেওয়া হল ৫৪টি গয়না ও সোনারুপোর দোকান। চাঁদনি চকের কুচা মহাজানি এলাকায় এই ঘটনায় মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য। আর দোকানের ভিতরে কোটি কোটি টাকার গয়না ও মূল্যবান সামগ্রী থাকায় এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়ে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ কুচা মহাজানি এলাকায় পৌঁছয় দিল্লি পুরসভার আধিকারিকরা। এরপর একাধিক বিল্ডিংয়ের বেসমেন্টে চলা দোকানগুলিতে শুরু হয় সিল করার কাজ। MCD-র বক্তব্য, অনুমোদিত ব্যবহারের নিয়ম না মেনে বেসমেন্টে বাণিজ্যিক কার্যকলাপ চলছিল। Master Plan for Delhi-2021 এবং Unified Building Bye-Laws-এর নিয়ম ভাঙার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দমকল ও অন্যান্য অনুমোদনের ঘাটতির কথাও জানিয়েছে পুরসভা।
এই অভিযানকে ঘিরেই এখন ব্যবসায়ী মহলে তীব্র উদ্বেগ। তাঁদের বক্তব্য, দোকানগুলির ভিতরে রয়েছে বিপুল পরিমাণ সোনা, রুপো, গয়না এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী। আচমকা সিল পড়ায় সেই সম্পদ কীভাবে নিরাপদে বের করা হবে, তা নিয়েই চিন্তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। অল ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি যোগেশ সিংঘালও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, সিল করার আগে দোকানগুলিতে নোটিশ লাগানো হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তাঁরা যথেষ্ট সময় পাননি। কয়েকটি নোটিশের তারিখ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, কিছু নোটিশ পুরনো তারিখের এবং প্রশাসনের পদক্ষেপের আগে বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।
তবে পুরসভার বক্তব্য, এই পদক্ষেপ হঠাৎ নেওয়া কোনও সিদ্ধান্ত নয়। MCD জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট দোকানগুলির বিরুদ্ধে আগেই ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া ছিল এবং মনিটরিং কমিটি ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতেই এই সিলিং অভিযান চালানো হয়েছে। অর্থাৎ, ব্যবসায়ীদের অভিযোগের পাশাপাশি প্রশাসনের তরফেও রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়মভঙ্গের ব্যাখ্যা। ফলে একদিকে নিয়ম ভাঙার অভিযোগ, অন্যদিকে দোকানের ভিতরে আটকে থাকা কোটি টাকার সম্পদ—দুইয়ের মাঝে চরম দুশ্চিন্তায় চাঁদনি চকের ব্যবসায়ীরা। এখন প্রশ্ন একটাই, সিল করা দোকানগুলি থেকে মূল্যবান গয়না কীভাবে নিরাপদে বের করা হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপই বা কী হতে চলেছে? এই ঘটনার পর দিল্লির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বর্ণবাজারে পরিস্থিতির দিকে নজর থাকছে সবার।
