সুরেন্দ্রনাথ ল’ কলেজে ২৩ ঘণ্টা আটকে থাকার পর অবশেষে পদত্যাগ ভাইস প্রিন্সিপালের, প্রিন্সিপালের দাবি—‘চাপ দিয়ে আমাকে দিয়ে পদত্যাগ করানো হয়েছে’

breakingnews অপরাধ আইন কলকাতা রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো:  টানা ২৩ ঘণ্টার ঘেরাওয়ের পর শেষমেশ ইস্তফা, কিন্তু কলেজ ছাড়ার সময়ই বিস্ফোরক দাবি! সুরেন্দ্রনাথ ল’ কলেজে পড়ুয়াদের বিক্ষোভের জেরে ভাইস প্রিন্সিপাল মহম্মদি তারান্নুম পদত্যাগ করেছেন। তবে তাঁর দাবি, এই পদত্যাগ স্বেচ্ছায় নয়। পড়ুয়ারাই তাঁকে চাপ দিয়ে ইস্তফাপত্র লিখিয়েছেন। ফলে পদত্যাগের পরেও থামল না বিতর্ক, বরং সামনে এল নতুন অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টো নাগাদ ভাইস প্রিন্সিপালের ঘর ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন একদল পড়ুয়া। রাত পেরিয়ে শুক্রবার সকালেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। প্রায় ২৩ ঘণ্টা ঘেরাও থাকার পর শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেন মহম্মদি তারান্নুম। কিন্তু ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভাইস প্রিন্সিপালের অভিযোগ, তাঁকে রাতভর ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছিল। এমনকী আলো-পাখাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি নিয়ে ডিপিআই, জয়েন্ট ডিপিআই এবং মন্ত্রীকে জানানো হলেও তাঁকে উদ্ধার করতে কেউ আসেননি। শেষপর্যন্ত আর চাপ নিতে না পেরে পদত্যাগ করে কলেজ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

তবে পড়ুয়াদের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁদের দাবি, ভাইস প্রিন্সিপাল নিজের ইচ্ছাতেই পদত্যাগ করেছেন। কোনও রকম জোর বা চাপ দেওয়া হয়নি। বরং তাঁদের অভিযোগ, উপস্থিতির নিয়ম দেখিয়ে একাংশ পড়ুয়াকে পরীক্ষায় বসতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই তাঁরা আন্দোলনে নামেন। ঘটনার সূত্রপাত বুধবার। কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়, উপস্থিতির হার কম থাকায় কিছু পড়ুয়াকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না। এরপরই ক্ষোভ ছড়ায় পড়ুয়াদের মধ্যে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে ভাইস প্রিন্সিপালের ঘরের ভিতরে এবং বাইরে অবস্থান শুরু করেন কয়েকশো পড়ুয়া। তাঁদের একটাই দাবি—পরীক্ষায় বসার সুযোগ দিতে হবে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মুচিপাড়া থানার পুলিশ। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে বিক্ষোভ চলতে থাকে। শুক্রবার সকালেও ভাইস প্রিন্সিপালের পদত্যাগের দাবিতে সরব ছিলেন পড়ুয়ারা। অবশেষে তাঁর পদত্যাগের পর পরিস্থিতিতে আসে নতুন মোড়।