SIR protest West Bengal:“এসআইআরের দৌরাত্ম্য আর নয়”—সোমবার পথে বিএলও-রা, প্রতিবাদের পাশে দৃঢ় সমর্থন তৃণমূলের!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:নির্বাচনী লক্ষ্যমাত্রার আকাশছোঁয়া টার্গেট, তার নীচে চরম প্রশাসনিক চাপ, আর সামান্য ভুলেই চাকরি খোয়ানো বা গ্রেফতারের ত্রাস—এই বহুমুখী সংকটের কিনারায় দাঁড়িয়ে রাজ্যের সরকারি কর্মীরা যেন একেবারে বোঁড়ে ঠেলে দেওয়া শ্রমযন্ত্রে পরিণত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়াকে (SIR protest West Bengal) ঘিরে সেই অস্বস্তি আর আতঙ্কই এবার রূপ নিতে চলেছে রাস্তায় গর্জে ওঠা এক সামূহিক প্রতিবাদে।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/11/23/chandigarh-article-240-capital-dispute-no-decision/

কেরলে যে অগ্নিস্ফুলিঙ্গের সূচনা হয়েছিল, বাংলায় তা যেন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটির পতাকা হাতে সোমবার কলেজ স্ট্রিট থেকে নির্বাচন ভবন অভিমুখে বিশাল বিক্ষোভ মিছিলের ডাক—আর সেই দপ্তরের বাইরে ধর্ণার ঘোষণাই পরিস্থিতির গুরুত্বকে আরও ঘনীভূত করছে। শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, প্যারা-টিচার—যাঁরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নীরব স্তম্ভ হিসেবে এতদিন দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন, তাঁরাই প্রথমবার এত স্পষ্ট ভাষায় বলছেন—এই সময়সীমা, এই প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা এবং এই ভয়াবহ চাপের মধ্যে এসআইআর কার্যত অকার্যকর, অবাস্তব, এবং নির্মম। তাই তাদের একটাই দাবি—প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত হোক।

কিন্তু প্রতিবাদের ভিতরেই মতপার্থক্যের ছায়া। একাংশের অসহযোগিতা নিয়ে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ—এ যেন পরিকল্পিত বিভাজন, ঐক্য ভাঙার কৌশল, যাতে প্রতিরোধের গর্জন ক্ষীণ হয়ে আসে।

এই উত্তপ্ত আবহে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকাশ্য সমর্থন রাজনৈতিক অঙ্ককে আরও জটিল করেছে। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের বক্তব্য—বিএলও-দের যন্ত্রণা সরাসরি প্রশাসনিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত। অপ্রস্তুত জমির উপর অপরিকল্পিত নির্দেশ, ফর্মের অপ্রাপ্যতা, সার্ভারের বিপর্যয়, অ্যাপের অক্ষমতা—সব মিলিয়ে এই কর্মযজ্ঞ প্রযুক্তিগতভাবে প্রায় অকার্যকর। তাঁর তীক্ষ্ণ মন্তব্য—“কেউ কাজ এড়াচ্ছেন না। তাঁদের কণ্ঠে শুধু বাস্তবতার প্রতিবাদ। এই চাপ, হুমকি, আর আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির মধ্যে নীরব থাকা অন্যায়।”

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

তৃণমূলের আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিজেপির চাপে কমিশন এসআইআর (SIR protest West Bengal) চাপিয়ে দিচ্ছে। ২০০১ সালে যে প্রক্রিয়ায় দু’-আড়াই বছর লেগেছিল, এবার তা সেরেও ফেলতে হবে দু’-আড়াই মাসে—এই তুলনাই যেন গোটা পরিস্থিতির অযৌক্তিকতা নগ্ন করে দেয়। তার উপর বিহারের উদাহরণ টেনে গ্রেফতারি, চাকরি-নাশের হুমকি—যেন ভয়কে প্রশাসনিক বিধানে পরিণত করার প্রয়াস।

এই জটিল অস্থিরতার মাঝে সোমবারের মিছিল শুধু প্রতিবাদ নয়—এ যেন প্রতিষ্ঠানের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার এক প্রতীকী অনুরণন। এখন অপেক্ষা—নির্বাচন ভবনের দরজায় সেই গর্জনের প্রতিধ্বনি কোথায় গিয়ে থামবে, আর কমিশন কোন পথে সাড়া দেবে।