নিউজ পোল ব্যুরো:বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর প্রশ্নে আবারও তৎপর হল ঢাকা। মহম্মদ ইউনুসের (Yunus government letter to India) নেতৃত্বাধীন সরকারের বিদেশ মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় উল্লেখ করে গত ১৭ নভেম্বর ভারতের উদ্দেশে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে হাসিনাকে প্রত্যর্পণের আবেদন জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও ভারত এখনও সেই চিঠি প্রাপ্তির কথা স্বীকার করেনি।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/11/23/sir-shutdown-blo-protest-west-bengal-tmc-support/
এর আগে গত বছরের ২০ ও ২৭ ডিসেম্বরও নয়া দিল্লিকে দু’দফা ‘নোট ভারবাল’ পাঠিয়েছিল ঢাকা। তবে সেগুলোর কোনও জবাব পায়নি বাংলাদেশ। ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। রায়ে বলা হয়, এক মাসের মধ্যে সাজা কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যাওয়ারও সুযোগ দেওয়া হয়।
সাজা ঘোষণার পর পরই বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়—মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত কাউকে আশ্রয় দেওয়া ন্যায়বিচারের প্রতি অসম্মান। দুই দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী দণ্ডিতদের ফেরত দেওয়া ভারতের দায়িত্ব বলেও দাবি করা হয়। তবে ভারতের সরকারি মহল এখনো এ বিষয়ে নীরব। বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বিচার প্রসঙ্গে সরাসরি মন্তব্য না করে শুধু বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি ভারত অঙ্গীকারবদ্ধ।
কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, নয়া দিল্লির শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের কোনও আগ্রহ নেই। চলতি সপ্তাহে দিল্লিতে নিরাপত্তা সম্মেলনে বাংলাদেশি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের বৈঠকেও সেই ইঙ্গিত মিলেছে বলে জানা গেছে। ফলে ইউনুস সরকারের হাতে হাসিনাকে তুলে দেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।
এদিকে শেখ হাসিনার (Yunus government letter to India) তরফে সাজা মকুব বা আপিলের সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লিগের এক শীর্ষ নেতার মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করা প্রায় অসম্ভব। তবে ভবিষ্যতে আইনি লড়াইয়ের সুযোগ থাকছে বলে তাঁর দাবি। উদাহরণ হিসেবে তিনি লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সাজা খারিজের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
সব মিলিয়ে হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ভারতের নীরবতা নতুন কূটনৈতিক জট তৈরি করেছে। তৃতীয় চিঠির কোনও জবাব দেয় কি না এবং দিল্লির অবস্থান কী—তা নিয়েই এখন দুই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র কৌতূহল। রায় কার্যকরের সময়সীমা যত ঘনিয়ে আসছে, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কেও তত বাড়ছে উত্তাপ।
