Himanta Biswa Sarma:‘অসমে ১০০+, বাংলায় ২০০ পার’—বড় দাবি হিমন্ত বিশ্ব শর্মা-র, পাল্টা কড়া বার্তা নরেন্দ্র মোদি-র!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। প্রথম দফার ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই জোরদার হচ্ছে প্রচারের ঝড়। শেষ রবিবারের প্রচারপর্বে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকা থেকে শুরু করে জঙ্গলমহলের মাটিতে রাজনৈতিক দলগুলোর বাগযুদ্ধ নতুন মাত্রা পায়। বিশেষ করে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এদিন একযোগে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে এবং নিজেদের জয়ের ব্যাপারে প্রবল আত্মবিশ্বাসের সুর শোনায়। উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাটে বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মণ লিম্বুর সমর্থনে আয়োজিত এক বিশাল জনসভা থেকে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) এক তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক ভবিষ্যদ্বাণী করেন। দৃপ্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, অসমে বিজেপি ১০০-র বেশি আসনে জয়লাভ করবে এবং পশ্চিমবঙ্গে ২০০-রও বেশি আসন পেয়ে সরকার গড়বে। তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, বিজেপি এই নির্বাচনে শুধু লড়াই নয়, একতরফা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছে।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/04/19/mamata-banerjee-ipac-tmc-joining-warning-bengal-elections/

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) তাঁর বক্তব্যে উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার প্রসঙ্গ বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই অঞ্চলের উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হয়েছে। চা-বাগানের শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, পর্যটনের বিকাশ এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত প্রশাসনের প্রয়োজন। সেই কারণেই “ডাবল ইঞ্জিন সরকার”-এর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি। তাঁর কথায়, কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার থাকলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রুত হয় এবং সাধারণ মানুষ সরাসরি তার সুফল পান।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole

একইসঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে ধরে দাবি করেন, রাজ্যে শাসকদলের বাধার কারণেই সেই সুবিধা পুরোপুরি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছে না। তাই নবান্নে সরকার পরিবর্তন হলে উন্নয়নের গতি বহুগুণ বাড়বে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের জঙ্গলমহল অঞ্চলেও এদিন রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে ওঠে। পুরুলিয়ার রায়বাঘিনী মাঠে আয়োজিত এক জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর ভাষণে ছিল আক্রমণাত্মক সুর এবং সরাসরি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আগামী ৪ মে-র পর বাংলায় বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীই সরকার পরিচালনা করবেন।

মোদি তাঁর বক্তব্যে রাজ্যের তথাকথিত ‘সিন্ডিকেট রাজ’ এবং ‘কাটমানি’ সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দুর্নীতির এই সংস্কৃতির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এমনকি রেলসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো উন্নয়নেও রাজ্য সরকারের বাধা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ত্রিপুরা ও অসমের উদাহরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে, সেখানে উন্নয়নের গতি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কৃষক থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই তার সুফল পেয়েছেন। বাংলাতেও একই পরিবর্তন সম্ভব বলে তিনি আশ্বাস দেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বিজেপি এই নির্বাচনে ‘মহা পরিবর্তন’-এর বার্তা সামনে রেখেই ভোটের ময়দানে লড়ছে।

সব মিলিয়ে, শেষ রবিবারের প্রচারে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের এই ধারাবাহিক আক্রমণ, বড়সড় নির্বাচনী ভবিষ্যদ্বাণী এবং শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। প্রথম দফার ভোটের আগে এই ধরনের উচ্চকিত প্রচার যে ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলতে পারে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, ভোটের ময়দানে এই দাবিগুলি কতটা বাস্তবে রূপ পায় এবং বাংলার জনগণ শেষ পর্যন্ত কাকে ক্ষমতর মসনদে বসায়।